| |

Ad

ভালো নেই ঝিনাইগাতীর কান্দুলী আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা

আপডেটঃ 5:11 am | December 09, 2017

খোরশেদ আলম, শেরপুর প্রতিনিধি:ভালো নেই ঝিনাইগাতী উপজেলার কান্দুলী আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা। এ আশ্রয়ন প্রকল্পে নারী-পুরুষ শিশুসহ প্রায় ৫শতাধিক লোকের বসবাস। অভাব, অনটন, দুঃখ আর দুর্দশাই তাদের নিত্য দিনের সাথী। জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের, কান্দুলী গ্রামে সাড়ে ৭ একর সরকারী খাস জমির উপর একটি পুকুরসহ ৬ টি ঘর নির্মাণ করা হয়। ওই ৬টি ঘরে ৬০টি কক্ষ রয়েছে। প্রতিটি কক্ষে ১টি করে ছিন্নমূল ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হলেও তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়নি। আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা মোঃ হাসেন আলী জানান, অনেক সমস্যার আবর্তে ছিল আশ্রয়ন প্রকল্পে ৬০টি পরিবার। কর্মসংস্থানের অভাবে ও জীবিকার সন্ধানে ৩০টি পরিবার পাড়ি জমিয়েছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। শত অভাব অনটন দুঃখ আর দুর্দশা বুকে চেপে রেখে ৩০টি পরিবার রয়েছে আশ্রয়ন প্রকল্পে। বর্তমানে ওই ৩০টি পরিবারে রয়েছে কয়েক শতাধিক লোক। আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা খলিলুর রহমান, ইয়ানুস আলী, মহির উদ্দিন শাহ আলম বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্পটি নির্মানের পর কেউ আর তাদের খোঁজ খবর নেয়নি। সবাই দিন মজুরি করে পরিবারের সদস্যদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। বছরে ২/৩ মাস কৃষির উপর শ্রম বিক্রি করে। বাকি সময় তাদের বেকার থাকতে হয়। সরকারী কোন সাহায্য সহযোগিতা পায় না তারা। আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরগুলো ভেঙ্গে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলে আশ্রয়নের বাসীন্দাদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় ঘরের মেঝেগুলো। এখানে বসবাসকারীদের যাতায়াতের রাস্তা নেই। নলকূপগুলো অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় এখানে রয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব। রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে লোকজনের যাতায়াতের দুর্ভোগের পাশাপাশি শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না। প্রকল্পের ভিতরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বিরাজ করছে। খাদ্যের অভাবে স্বাস্থ্যহীনতায় ভূগছে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ আশ্রয়নবাসীরা। সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে জানা গেছে, তাদের এসব অর্র্বণীয় দুঃখ আর দুর্দশার কথা। এ আশ্রয়ন প্রকল্পে নেই কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । ফলে দরিদ্র পরিবারের শিশু কিশোররা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এখানে এ প্রতিবেদকের সাথে দেখা ও কথা হয় আশ্রয়নের বাসিন্দা খাদেম আলী, মর্জিনা বেগম, মুন্নাস, বারেক মিয়া, হারুন অর রশিদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জনপ্রতিনিধিদের কাছে ভিজিডি কার্ড চাইতে গেলে তারা পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ চায়। দিতে না পারায় আশ্রয়নবাসীর ভাগ্যে জুটেনা ভিজিডি কার্ড থেকে শুরু করে অন্যান্য সুযোগ সুবিধা। তারা আক্ষেপ করে বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের নানাবিদ সমস্যা সমাধানের জন্য বহু আবেদন নিবেদনও করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ ১৮ বছরেও এর কোন সমাধান‘ হয়নি। আশ্রয়নবাসীরা অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছে।