| |

Ad

সিস্টেম অপারেশন (কেঃ অঃ) পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ জিএম এর দৃষ্টি আকর্ষন, লাইন টেকনিশিয়ান আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা মূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ

আপডেটঃ 6:41 pm | June 05, 2021

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলাধীন নলদিঘী এলাকায় অবস্থিত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর সাব জোনাল অফিসে কর্মরত লাইন টেকনিশিয়ান আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা মূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মালেক নানা অনিয়ম দূর্নীতির মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অভিযোগকারীদের ভাষায় সে একজন প্রতারক ধান্ধাবাজ ও অসৎ প্রকৃতির লোক ।

প্রায় তিন বছর যাবত উক্ত স্ট্রেশনে চাকুরি করে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির রাজস্বা আদায়ে বিঘœতা সৃষ্টি করে নিজের পকেট ভাড়ি করছে । সূত্র মতে গত তিন বছরে ২৫/৩০ লক্ষ টাকা অবৈধ ভাবে হাতিয়ে নিয়েছে। স্থানীয় ভূক্তভোগিদের অনেকে জানায় মালেক হুংকার দিয়ে বলে আর ই বি তে তার উচ্চস্তরের লোকজন রয়েছে। তাকে কেউ কিছু করতে পারবে না ।

তারাকান্দার গাঁলাগাও ইউনিয়নের বাসিন্দা আল আমিন মালেকের অবৈধভাবে সেচ সংযোগের ট্রান্সফর্মার স্থানান্তরের অভিযোগ এনে গত ২৪/৪/২০২১ ইং তারিখে সিস্টেম অপারেশন (কেঃ অঃ) পরিদপ্তর বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সদর দপ্তর বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

দায়েরকৃত অভিযোগে বলা হয়েছে দর্জিগাতি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মফিদুল ইসলাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন সেচ গ্রাহক। তার সেচ সংযোগ হিসাব নং ০৪-১০৪-২৭৮০ । উক্ত সংযোগটি ধলিকান্দা গ্রামে অবস্থিত পল্লী বিদ্যুতের স্থাপিত ঞঅ-৬-৭৮ নং খুটিতে ছিল। পরবর্তীতে মোঃ মফিদুল ইসলাম সাব জোনাল অফিসের লাইন টেকনিশিয়ান আব্দুল মালেকের সাথে যোগসাজেসে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে অফিস কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে অবৈধ ভাবে দর্জিগাতি গ্রামে স্থাপিত বিদ্যুতের ঞঅ-৬-৬৯-১২ নং খুটিতে ট্রান্সফর্মার সহ সংযোগটি স্থানান্তর করে ।

বিষয়টি স্থানীয় ভাবে জানাজানি হলে লাইন টেকনিশিয়ান মালেক মফিদুলের সাথে যোগসাজেসে কৌশলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে মালেক অবৈধ ভাবে লাভবান হলেও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
এছাড়া তারাকান্দার চরপাড়া গ্রামের আল মামুন গত ২৮/০৫/২০২১ ইং তারিখে সিস্টেম অপারেশন (কেঃ অঃ) পরিদপ্তর বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎায়ন বোর্ড সদর দপ্তর বরাবরে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন । দায়ের কৃত অভিযোগে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান এড মো ফজলুল হক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চৌধুরী নয়ন ও গাঁলাগাও ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জিয়া অভিযুক্ত মালেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জোর সুপারিশ করেছেন।

প্রেরিত অভিযোগে বলা হয়েছে বিগত চার মাস পূর্বে অভিযোকারী মামুনের নামীয় পিডিবি শিল্ল সংযোগের ৫০০ ফুট তার প্রযোজন হওযায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর তারাকান্দা জোনাল সাবস্টেশনের টেকনেশিয়ান আব্দুল মালেকের সাথে যোগাযোগ করলে সে ৫০০ ফুট তার ব্যবস্থা করে দিবে বলে আশ্বাস দেয় এবং ৪ হাজার টাকা নেয়। পরবর্তীতে মালেক ২০০ ফুট তার প্রদান করে বাকী ৩০০ ফুট তার এক সপ্তাহের মাঝে দিবে বলে জানায় কিন্তু এ পর্যন্ত তার আর দেয় নাই ।

অবশেষে আল মামুন নিরুপায় হয়ে মালেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পূর্বপাগলী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ফারুক মিয়া গত ১৮/০৪/২০২১ ইং তারিখে অবৈধ ভাবে অন্যের ভূমিতে স্থাপিত বোরিংয়ে সেচ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ এনে আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে সিস্টেম অপারেশন (কেঃ অঃ) পরিদপ্তর বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎায়ন বোর্ড সদর দপ্তর বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে তারাকান্দার পূর্ব পাগলী গ্রামের বাসিন্দা সদেকুল ইসলাম পল্লী বিদ্যুতের একজন সেচ গ্রাহক ।

কিন্তু তার নামীয় সেচ সংযোগটি নিজ ভূমিতে বোরিং স্থাপন না করে সাব জোনাল অফিসের লাইন টেকনিশিয়ান আব্দুল মালেকের সাথে যোগসাজসে অর্থের বিনিময়ে স্টেকিং শীট তৈরি করে অফিস কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে অবৈধভাবে একই গ্রামের বাসিন্দা মোখলেসুর রাহমানের ভূমিতে স্থাপিত বোরিংয়ে সেচ সংযোগটি চালু করে ।

বিষয়টি স্থানীয় ভাবে জানাজানি হলে লাইন টেনিশিয়ান মালেক সাদিকুলের সাথে যোগসাজসে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। বালিখা গ্রামের মুখলেছুর রহমান পল্লী বিদ্যুতের ডুপ্লেক্স খুঁটি হতে নতুন করে অবৈধ ভাবে তার টেনে সেচ সংযোগের অভিযোগ এনে গত ১৮/০৪/২০২১ ইং তারিখে সিস্টেম অপারেশন (কেঃ অঃ) পরিদপ্তর বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সদর দপ্তর বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে বালিখা গ্রামের আল আমিনের বসত বাড়ির উত্তর পাশে একটি পল্লী বিদ্যুতের ১৫ কেভি ট্রান্সফর্মার বিদ্যমান আছে।

উক্ত ট্রান্সফর্মার হতে প্রায় ২৩/৪০ টি আবাসিক ও একটি সেচ সংযোগ রয়েছে। তারাকান্দা সাব জোনাল অফিসের লাইন টেকনিশিয়ান আব্দুল মালেক ও স্থানীয় ইলেক্ট্রিশিয়ান মজিবুর রহমান পরস্পর যোগসাজসে অর্থের বিনিময়ে উক্ত খুঁটির টান্সফর্মার হতে নতুন করে অবৈধ ভাবে ডুপ্লেক্স তার টেনে বালিখা গ্রামের আব্দুল বারেকের নামে স্টেকিং শীট তৈরি করে অফিস কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে সেচ সংযোগ প্রদান করেছে। পূর্বের শীট অনুযায়ী ডুপ্লেক্স খুঁটিতে একটি তার টানানোর ব্যবস্থা ছিল। এই ঘটনাটি জানাজানি হলে মালেক কৌশলে তা ধামাচাপা দেয় ।

বালিখা গ্রামের কামাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে অবৈধ ভাবে পল্লী বিদ্যুতের ডুপ্লেক্স খুঁটিতে ডি-১২ তার টেনে সংযোগ গ্রহনকারি ব্যক্তির বোরিং না থাকা সত্বেও অন্যর ভূমিতে স্থাপিত বোরিংয়ে সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ এনে সিস্টেম অপারেশন (কেঃ অঃ) পরিদপ্তর বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎায়ন বোর্ড সদর দপ্তর বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে বালিখা গ্রামের বাসিন্দা আসমত আলী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন সেচগ্রাহক, লাইন টেকনিশিয়ান আব্দুল মালেক ও ইলেক্ট্রিশিয়ান মজিবুর রহমান পরস্পর যোগসাজেসে অর্থের বিনিময়ে স্টেকিং শীট তৈরি করে অফিস কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে অবৈধ ভাবে আসমত আলীর সেচের বোরিং না থাকা সত্বেও অন্যলোকের জমিতে স্থাপিত বোরিংএ ডুপ্লেক্স খুঁটি হতে ডি-১২ তার টেনে সেচ সংযোগ প্রদান করে ।

এ বিষয়টিও জানাজানি হলেও টেকনিশিয়ান মলেক ও মজিবর তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে । এভাবে অবৈধ ভাবে অপকর্ম করে মালেক ও তার সহযোগীরা অবৈধ সংযোগ দিয়ে যাচ্ছে, এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে পল্ল বিদ্যুৎ সমিতি। অভিযোগ সম্পর্কে অভিযুক্ত মালেক ও মজিবরের সংগে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি ।

ভূক্তভোগিগণ এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে দূর্নীতিবাজ মালেকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানিয়েছেন। অনেক বিদ্যুৎ গ্রাহক তাদের অভিমত ব্যক্ত করে দূর্নীতিবাজ মালেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সিস্টেম অপারেশন (কেঃ অঃ) পরিদপ্তর বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎায়ন বোর্ড সদর দপ্তর ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর জিএম এর দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।