| |

Ad

শীতে কাঁপছে শেরপুরের গারোপাহাড়ী জনপদের মানুষ

আপডেটঃ 12:41 pm | December 24, 2019

মাহফুজুর রহমান সোহাগ, নালিতাবাড়ী থেকে:- পৌষ মাসের শুরু হতেই শীতে কাঁপছে দেশের উত্তরাঞ্চলের ভারত সীমান্তবর্তী শেরপুরের গারো পাহাড়ী জনপদের শেরপুরসহ নালিতাবাড়ীর মানুষ। শীতের সাথে পাল্লা দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে শৈত্য প্রবাহ।

দরিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী এখানকার অধিকাংশ অধিবাসীরা প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে অতিকষ্টে রয়েছেন। বিশেষ করে পাহাড়ের অভ্যন্তরে ও পাদদেশে বসবাসকারী মুসলিম সম্প্রদায়সহ আদিবাসী তথা উপজাতি গরো-কোচ সম্প্রদায়ের মানুষের শীতের কারনে তাদের কষ্ট বাড়ছে। কনকনে ঠান্ডা হিমবায়ুর কারনে কাবু হচ্ছে মানুষ। এ থেকে বাদ পড়ছেনা গবাদি পশুও।

একই সাথে প্রচন্ড শীতে শিশু, বৃদ্ধসহ নানা বয়সীর মানুষ ও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। গত এক সপ্তহের অধিক দিন ধরে শেরপুর সীমান্তের নালিতাবাড়ী উপজেলার সমেশ্চুড়া, মধুটিলা, বুরুঙ্গা, খলচান্দা, বারোমারী, কালাপানি, দাওধারা, কাটাবাড়ি, হাতিপাগার, নাকুগাঁও, কালাকুমা, তারানী, পানিহাটা ও মায়াঘাসী এসব পাহাড়ী পল্লী গুলোতে চলছে কনকনে শীতের মহড়া। উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের হিমালয় পর্বতের হিমবায়ু আর ঘন কুয়াশায় চাদরে জেঁকে বসেছে প্রচন্ড শীত।

এখানকার খেটে খাওয়া ছিন্নমুল মানুষ গুলো প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। নালিতাবাড়ী উপজেলার গারো আদিবাসী মি. লুইস নেংমিনজা (৪৮) জানান, দিন দিন শীত বাড়ছে। প্রচন্ড শীতের কারনে সীমান্ত এলাকার গারো আদিবাসীরা শীতে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। প্রতিবছর এভাবেই শীতের সঙ্গে লড়াই করে তাদের বেঁচে থাকতে হয়। এতে পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা হয়ে পড়ে বিপর্যস্ত।

এসব অঞ্চলের শীতার্ত মানুষ পাহাড় থেকে লাকড়ি ও খরকুটা সংগ্রহ করে তা জ্বালিয়ে আগুন দিয়ে শরীর ছেঁকে শীত নিবারণের চেষ্টা করেন।আন্ধারুপাড়া গ্রামের শিক্ষক ছামাদুল হক (৪৬) বলেন, ভিতর এলাকার চেয়ে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় শীত পড়ে বেশি। সেই হিসেবে গরীব মুসলিমসহ অন্যান্য আদিবাসীরা সরকারিভাবে তেমন কোন শীতবস্র পায় না। খলচান্দা গ্রামের কোচ আদিবাসী পরিমল কোচ (৩৬) বলেন, সমতলের চেয়ে পাহাড়ে শীত পড়েছে বেশি। বেলা ১০টার আগে সুর্যের দেখা পাওয়া যায় না।

পর্যাপ্ত শীতবস্রের অভাবে রাত জেগে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে। কোচরা সবসময়ই সরকারি বরাদ্ধের শীতবস্র ঠিকমতো পায় না। বর্তমানে শীত নিবারনের জন্য মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ লেপ-তোষকের দোকানে ভীড় করছেন। ছিন্নমুল আর গরীব মানুষগুলো ভীড় করছেন পুরাতন গরম কাপড়ের দোকানে। হত দরিদ্র মানুষেরা সব চেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন।

তারা সরকারি ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। এদিকে প্রচন্ড শীতে বোরো ধান লাগানোর কাজ রেখে বেকার সময় পাড় করছে শ্রমিকরা। অন্যদিকে জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল গুলোতে শীত জনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

এর মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি। এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান জানান, সরকারীভাবে এ উপজেলায় ৬ হাজার ৬৮০টি কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। খুব দ্রুতই শীতার্থ মানুষের মাঝে এই কম্বল বিতরন করা হবে।