| |

Ad

ঈশ্বরগঞ্জ ৯ ডিসেম্বর মুক্ত দিবস

আপডেটঃ 2:03 pm | December 08, 2019

 

মতিউর রহমান মতি ঃ ১৯৭১ সালের ৯ ডিসেম্বর এই দিনে ঈশ্বরগঞ্জ থানা পাক হানাদার মুক্ত হয়েছিল। রক্তঝরা সেই উত্তাল দিনে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার দেশ প্রেমিক ছেলেরা মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করার দীপ্ত শপথ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মহান মুক্তিযুদ্ধে।

নিজ থানা শত্রুমুক্ত করতে ১৬ অক্টোবর রাতে কাজী আলম, আলতাফ ও হাবিবুল্লাহ খান- এ তিন কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধারা মাইজহাটি রেলওয়ে ব্রীজ ও টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করে ।

ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে রামগোপালপুর সংলগ্ন কটিয়াপুরী ব্রীজটি ভাংতে গেলে রাত প্রভাত হয়ে যায়। পরে দিনের বেলায় আক্রমণ না করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা। কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক হাসিম উদ্দিন আহমেদ দিনের বেলাতেই থানা আক্রমণ করতে মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসাহিত করেন।

তিন কোম্পানির মুক্তিযোদ্ধারা পরে সড়ক পথে অগ্রসর হয়ে দত্তপাড়া (বর্তমান পৌর কবরস্থান) এসে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তিন গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন কাজী হাসানুজ্জামান হিরো, হাবিবুর রহমান আকন্দ হলুদ ও মতিউর রহমান।

আক্রমণের রূপরেখা অনুযায়ী কোম্পানি কমান্ডার আব্দুস সালামের নির্দেশনায় মতিউর রহমান ও আবদুছ ছাত্তার গ্রুপ চরহোসেনপুর নলুয়াপাড়া জামে মসজিদের পাশ থেকে এক যোগে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু রূপরেখা অনুযায়ী থানা সদরে প্রবেশ করতে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

ভেঙ্গে পড়ে চেইন অব কমান্ড। ফলে অভিযান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এ ব্যর্থতার কারণ ছিল দিনের বেলায় থানা আক্রমণ এবং মুক্তিযোদ্ধারা স্থানীয় হওয়ায় দায়িত্বের প্রতি চরম অবহেলা।

এ অবহেলার করণে ওই দিন যুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা শামছু, মান্নান, আনোয়ার, তাহের, মতিউর, আঃ খালেক ও হাতেম আলী পাক বাহিনীর গুলিতে নির্মমভাবে শাহাদত বরন করে। ৮ ডিসেম্বর পুনরায় মুক্তিযোদ্ধারা সু-সংগঠিত হয়ে থানায় আক্রমণ করে।

আক্রমণের ভয়াবহতায় ভীত হয়ে পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আলবদরের লোকজন গভীর রাতে থানা প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ৯ ডিসেম্বর ঈশ্বরগঞ্জ বাসীর কাছে অত্যন্ত গর্বের দিন।

এ দিন থানা শহরে বেদনা বিধূর পরিস্থিতিতেও ফুটে উঠেছিল বিজয়ের মহা আনন্দ। ওই দিন শহীদদের রক্তাক্ত সকালে থানার বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধা ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা সম্মিলিত ভাবে ঈশ্বরগঞ্জকে মুক্ত দিবস ঘোষণা করে স্বাধীনতার প্রতীক লাল সবুজের জাতীয় পতাকা এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড পতাকা উত্তোলন করেন।

দিবসটি পালন উপলক্ষে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন দু’দিন ব্যাপি কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে শহীদদের কবর জিয়ারত, পতাকা উত্তোলন, স্বেচ্ছায় রক্তদান, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।