| |

Ad

ফুলবাড়িয়ায় একই পরিবারে চার প্রতিবন্ধী কন্যা

আপডেটঃ 1:25 pm | October 23, 2019

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি হেলাল উদ্দিন উজ্জ্বল : ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের চৌরঙ্গীপাড় গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারের ৫ কন্যা সন্তানের মধ্যে ৪ জনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। হতদরিদ্র ইব্রাহিম আলীর প্রতিবন্ধী চার কন্যা পারভীন আক্তার (৩৫), বিউটি আক্তার (২০),তাপুসি (১৫) ও শাবনুর (১১)।

তাদের মা শামছুন্নার কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী। বিউটি ও তাপুসি প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও অন্য দুইজেন প্রতিবন্ধী কার্ড হয়নি। গতকাল বুধবার প্রতিবন্ধী কন্যাদের পিতা ইব্রাহিম আলীকে ইউএনও তাঁর অফিসে ডেকে এনে তাঁকে একটি দোকান, ঘর, ও টিউবওলের ব্যবস্থা করার আশ্বস্ত প্রদান করেছেন। এসময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আ. মালেক সরকার উপস্থিত ছিলেন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চৌরঙ্গীপাড় গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের নিচে ঝড়াজ্বীর্ন একটি বাড়িতে খুপড়ি ঘরে বসবাস। ঘরের স্যাঁত স্যাঁতে বারান্দা পা এলিয়ে বসে আছে প্রতিবন্ধী চার বোন। বিউটি আক্তার কথা বলতে পারলে অন্যরা ঠিকমতো কথা বলতে পারেনা। জমিজমা নেই।

বাড়ির জমিটুকুই সম্ভবল। বয়োবৃদ্ধা পিতা অন্যের কাজ করে সংসার চালায়। প্রতিবন্ধী চার কন্যার কারনে এখন আর কোন কাজে যেতে পারেনা। প্রতিবন্ধী মেয়েদের গোসল, খাওয়া দাওয়া,প্রকৃতির কাজ সব কিছু সারাতে হয় পিতা ইব্রাহিমের। তিন মাস পর পর প্রতিবন্ধী ভাতা ও মানুষের আর্থিক সহায়তায় অর্ধহারে অনাহারে চলে তাদের দিনাতিপাত।

প্রতিবন্ধী বিউটি আক্তার বলেন, স্যার আমরা অসহায় ও দুঃখি মানুষ,খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি, সবকিছুই আব্বা করে দেন, আম্মা থেকেও নেই, সবার সহযোগীতা ছাড়া আমাদের বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পরবে।

ইব্রাহিম আলী বলেন, জন্মের এক বছর পর থেকে সন্তানদের হাত বাঁকা হয়ে শরীরে শক্তি হারিয়ে ফেলে, অনেক চিকিৎসা করিয়েছি কোন কাজ হয়নি, ডাক্তারা বলেছে ভালো হবেনা। ৫ টি মেয়ের মধ্যে চারজনই প্রতিবন্ধী, সবকিছু আল্লাহর লিলাখেলা, মেয়েদের রেখে কোথায় কাজে যেতে পারিনা, কারন তাদের সবকিছু আমার করতে হয়।