| |

Ad

অজ্ঞাত কিশোরী পাগলী ও তার সন্তানের ভবিষ্যত কি হবে?

আপডেটঃ 2:05 pm | October 16, 2019

সাইফুল আলম, কেন্দুয়া প্রতিনিধিঃ আনুমানিক ১৬/১৭ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক পাগলী মা গভীর রাতে রাস্তায় সন্তান প্রসব করেছেন। তার করুন অবস্থা দেখে এগিয়ে আসেন পেরী গ্রামের এক যুবক শামীম।

তিনি ফোন করে জানান কেন্দুয়া থানার ওসি রাশেদুজ্জামান ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। পরে শামীমের মাধ্যমে রাত সাড়ে ১২ টায় ফুটফুটে কন্যা শিশু ও পাগলী কিশোরী মাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের কেন্দুয়া-আঠারবাড়ী সড়কের পেরীর মোড় নামক স্থানে। বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় বেডে শায়িত অপরিচিত কিশোরী পাগলী মা ও তার নবজাতক ফুটফুটে শিশুটিকে দেখতে উৎসুক জনতার ভীড়।

সেখানে উপস্থিত কেন্দুয়া থানার ওসি রাশেদুজ্জামান, উপজেলা সসাজসেবা কর্মকর্তা ইউনুস রহমান, উদ্ধারকারী যুবক শামীম আহমেদ, চিকিৎসক,নার্সসহ শিশুটিকে দত্তক নিতে আসা আব্দুর রউফ খন্দকার প্রমূখ।

এসময় সকলের উপস্থিতিতে ওসি রাশেদুজ্জামান নবজাতক শিশুটির নাম রাখেন ‘‘জয়ীতা। ওসি রাশেদুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, কথা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে প্রসূতির নাম তাসলিমা। বয়স ১৫/১৬ হবে।

ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে বাসে চলে আসে এখানে এবং রাস্তার উপরে নবজাতক এই ফুটফুটে এই শিশুটির জন্ম দেয়। রাতে পেরী গ্রামের ফাইজুল ইসলামের ছেলে শামীম নামে একজন ফোন দিয়ে এ কথা আমাকে জানায়।

আমি হাসপাতালে নিয়ে আসতে বলি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, এসপি স্যারকেসহ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকেও জানিয়েছি। সঠিক পরিচয় জানাসহ বিস্তারিত জানার জন্য তদন্ত অব্যাহত আছে। আগে তাদের সুস্থতার দরকার।

সেজন্য নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইউনুস রহমান জানান, নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসার পর ঢাকার আজিমপুর ‘বেবী হোমথ এ পাঠানোর চেষ্টা করবো।

আব্দুর রউফ নামে একজন শিশুটিকে দত্তক নিতে চাচ্ছেন বলেও তিনি জানান। নবাজাতক ও পাগলী মাকে উদ্ধার করা শামীম আহমেদ জানান, পেরীর মোড়ে তাদের একটি দোকান রয়েছে।

সেখানে অপরিচিত ওই কিশোরী পাগলী রাত ১১ টার দিকে প্রসব ব্যাথায় কাতর অবস্থায় কয়েল নিতে আসে। মানবিক বিবেচনায় তাকে খাওয়ার পানি ও কেক দেওয়া হয়। একটু পরেই ব্যাথায় প্রচন্ড চিৎকার করতে থাকে। এক পর্যায়ে রাস্তাতেই ফুটফুটে শিশুটির জন্ম দেন তিনি।