| |

Ad

সরিষাবাড়ীতে চরিত্র সংশোধনের নামে ১৭ কোমলমতি শিক্ষার্থীকে অধ্যক্ষের বেত্রাঘাত

আপডেটঃ 1:02 pm | October 02, 2019

সরিষাবাড়ী (জামালপুর)প্রতিনিধি (সোলায়মান বাবু) ঃ- জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে চরিত্র সংশোধনের নামে ১৭ কোমলমতি শিক্ষার্থীকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বেত্রাঘাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার চিলড্রেন্স হোম পাবলিক স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীর অভিবাভকের লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী পৌরসভার চিলড্রেন্স হোম পাবলিক স্কুল প্রে থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বিভিন্ন শ্রেনী কক্ষে প্রবেশ করে পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী সকল শিক্ষার্থীদের কাছে ফজরের নামাজ পড়েছে কিনা জানতে চান। ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ সিমান্ত, সিফাত ইসলাম, সজিব মিয়া, মিফতা, জেরিন, ৬ষ্ঠ শ্রেনীর মাহজাবিন ইসলাম, জান্নাতুল মাওয়া, নওরিন সুলতানা, আব্দুল মোতালেব, ইয়াসীন আরাফাত, রিফাতুজ্জামান, মাহিদুল হাসান, শরিফুল ইসলাম, ফজলে রাব্বী, আরাফাত, জাহাঙ্গীর কবীর ফজরের নামাজ পড়েনি বলে জানায়। এ সময় অধ্যক্ষ উত্তেজিত হয়ে তাদেরকে বেধড়ক বেত্রাঘাত করেন।

পরে শিক্ষার্থীরা কান্নাকাটি করলে প্রতিষ্ঠানের পিয়ন আব্দুল আলীম ব্যাথা নাশক মলম লাগিয়ে তাদের বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়। শিক্ষার্থী সিফাত ইসলাম বাড়ীতে গিয়ে তার বাবা জহুরুল ইসলামকে জানালে তাৎক্ষনিক ভাবে ছেলেকে নিয়ে বিদ্যালয়ে হাজির হয়ে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোজাম্মেল হক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ঘটনার বিষয়াদি অধ্যক্ষের নিকট জানতে চান।

কথোপোকথনের মাঝে ৪র্থ শ্রেনীর ৫ জন, ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ১২জন শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করার সত্যতা পান। বেত্রাঘাতের ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ সিমান্তের বাবা সেলিম রেজা মঙ্গলবার বিকেলে বিচার প্রার্থী হয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ ব্যাপারে চিলড্রেন্স হোম পাবলিক স্কুলের অধ্যক্ষ ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীদের চরিত্র খারাপ হয়ে গেছে। তাদের নৈতিক শিক্ষার জন্যই বেত্রাঘাত করে চরিত্র সংশোধনের চেষ্টা করছি। জানতে চাইলে সরিষাবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন, যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ধর্ম শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

তথাপিও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত করা ঠিক হয়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করার ঘটনায় কোন অভিবাভক অভিযোগ করলে বেত্রাঘাতকারীর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।