| |

Ad

নালিতাবাড়ীর হাজীদের হজ্ব করাতে নিয়ে হয়রানীর অভিযোগ-

আপডেটঃ 11:36 am | September 24, 2019

মাহফুজুর রহমান সোহাগ, নালিতাবাড়ী থেকেঃ মক্কা-মদিনায় হজ্ব করাতে নিয়ে হাজীদের হয়রানী করার অভিযোগ উঠেছে শেরপুরের নালিতাবাড়ীর নুর মসজিদের মোয়াজ্জেন মোয়াল্লেম আমির হামজার বিরোদ্ধে। অভিযোগের অধিকতর তদন্ত জন্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে, ২০১৯ এ মক্কা-মদিনায় হজ্ব পালনের জন্য মোয়াল্লেম হিসাবে নালিতাবাড়ীর নূর মসজিদের মোয়াজ্জেম আমির হামজার মাধ্যমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে নালিতাবাড়ীর ৬জন হাজী। এরমধ্যে ২জন স্বামী-স্ত্রী হজ্ব যাত্রী হিসাবে আলোচনা সাপেক্ষে ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা নির্ধারন করেটাকা জমা প্রদান করে আমির হামজার নিকট। আমির হামজা ফোন করে বলে, রেজিঃ হয়ে গেছে ২জনের জন্য আরো বেশি ৮০ হাজার টাকা লাগবে। এই বেশি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় হাজী দম্পত্তি। পরে হাজীগন নূর মসজিদের সাধারন সম্পাদক হাজী আঃ রহমানসহ অনেককেই অবগত করেন। পরে এক বৈঠকেআমির হামজা আরো বেশি ৮০ হাজার টাকা দাবী করে। বৈঠকে আরো ২৪ হাজার টাকা দেওয়ার সিন্ধান্ত হয়। পরে তা প্রদান করে।

হাজী মোহাম্মদ আলী জানান, আমি ও আমারস্ত্রী মক্কার জেন্দা বিমান বন্দরে নামার পর আমাদের ২জনকে কিছু না বলে বাকি হাজীদের নিয়ে আমির হামজা মক্কায় চলে যান। পরে সেখানে আমরা বাঙ্গালীদের পেয়ে তাদের সহযোগিতায় জেদ্দা থেকে মক্কায় পৌছে যাই। সেখানে ৬/৭দিন অবস্থান করি। কিন্তু আমাদের কাফেলা যে দিন মদিনাতে যাবেন তার আগের দিন রাতে ৬জন হাজী নিয়ে অন্য মোয়াল্লেম দ্বারা মাইক্রোবাস দ্বারা মদিনাতে পাঠায়। আমরা রাস্তায় অনেক নাজেহাল হই। একপর্যায়ে আমরা মোয়াল্লেমকে বলি। আমরা হজ্ব করতে এসেছি। আমরা মদিনাতে যাব। এইভাবে কেন হয়রানী করে আপনারা আামাদের মদিনাতে আনলেন। আমাদের আমির হামজার কাছে নিয়ে যান। আমরা আমির হামজার কাছে যেতে চাইলে ঐ মোয়াল্লেম বলেন, আপনাদের ভাগ্য ভাল না। আমির হামজা আপনাদের মদিনার ভিসাই করে নাই। আমার সাথে রাগ করে লাভ কি। আমরা এই সংবাদ শুনে হতভম্ব হয়ে যাই। ৮/৯ দিন মদিনাতে পুলিশের ভয়ে চুড়ি করে মদিনার নববিইতে নামাজ আদায় করি। আর ভাবি এই বুঝি মদিনার পুলিশের কাছে আমাদের আটক হতে হয়। আর যদি আটক হতাম তাহলে দোষ হত বাংলাদেশের হাজীদের, দোষ হত আমাদের। না জানি হজ্বে গিয়ে খারাপ কিছু করেছি তা না হলে কেন পুলিশ আমাদের ধরল। আমরা বৈধভাবে হজ্বে যাওয়ার জন্য মোয়াল্লেম আমির হামজা কে ৬ লক্ষ টাকা দিলাম। কেন আমির হামজা অবৈধ ভাবে মদিনার ভিসা না করেই আমাদের ৬জন হাজীকে মদিনায় আনলেন। তাই বিচারের জন্য আমরা আপনাদের নিকট সরনাপন্ন হলাম। এই বিচার না হলে আগামী দিন এইভাবে আরো অনেক হজ্ব যাত্রীদের নির্যাতিত হতে হবে। শুধু তাই নয় পুলিশের হাতে নাজেহাল ও গ্রেফতার হয়ে বাংলাদেশের হাজীদের ইজ্জত হারাতে হবে। জানা মতে, এই মোয়াল্লেম আমির হামজার ট্রাভেল এজেন্সির কোন লাইসেন্সই নাই।

্এব্যাপারে মোয়াল্লেম আমির হামজা বলেন, মদিনার জন্য আলাদা কোন ভিসা হয়না। এক ভিসাতেই হজ্ব সম্পন্ন হয়। আর টাকার বিষয় নিয়ে হাজীদের সাথে কথা বলে ঠিক করা হয়েছে। নূর মসজিদের সাধারন সম্পাদক হাজী আঃ রহমান বলেন, বিষযটির ব্যাপারে একাধিকবার বসে আলোচনা হয়েছে। এখন তারা যেটি বলছে, মদিনার ভিসা ও হয়রানীর বিষয়। এটি তারা আলোচনা করুক। নালিতাবাড়ী ইমাম সমিতির সভাপতি হাজী কল্যান সমিতির সদস্য মাওঃ জামাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে সবাইকে নিয়ে বসতে পারলে এই সমস্যাটা হত না। নালিতাবাড়ী পৌর মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমি এই বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। লোকটির ব্যাপারে আরো ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি দেখা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, এব্যাপারে একটি অভিযোগ এসেছে।অভিযোগের অধিকতর তদন্ত জন্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। প্রতিবেদনের পরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।