| |

Ad

কেন্দুয়ার কান্দিউড়া ইউনিয়নে কর্মসৃজন প্রকল্প

আপডেটঃ 1:54 pm | September 16, 2019

 

ছেলে ইউপি সদস্য মা ও ধনী চাচা চাচীর নামে শ্রমিকের কার্ড সাইফুল আলম, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় কর্মসৃজন প্রকল্পের নামে হরিলুট হয়েছে। প্রকল্পের কাজে সুষ্ঠু কোন তদারকি না থাকায় উপজেলার সব কটি ইউনিয়নে দায়িত্বরত চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের সভাপতিরা কাজ না করেই শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ৪০টি প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রত্যেক ইউনিয়নে প্রায় ২০লাখ টাকার কাছাকাছি বরাদ্দ। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী গ্রামের হতদরিদ্র লোকদের ৪০দিনের এ কর্মসূচিতে প্রতিদিন ২০০টাকা মজুরীতে কাজ দেওয়ার কথা। কিন্তু চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের সভাপতিরা নিজেদের আত্মীয় স্বজনের নাম ব্যবহার করে তাদের শ্রমিক দেখিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে নিয়েছে। শ্রমিক হিসেবে আত্মীয় স্বজনরা ব্যাংকে হাজির হয়ে টাকা উঠালেও টাকা নিজেদের হাতে রাখতে পারেননি। ৮হাজার টাকার মধ্যে ১হাজার টাকা রেখে বাকী টাকা প্রকল্পের সভাপতির কাছে তুলে দিয়েছেন। পরে প্রকল্পের সভাপতি ও চেয়ারম্যানরা কতৃপক্ষকে ম্যানেজ করে এ টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। যার ফলে প্রকল্পের কাজে কোন কাজই হয়নি। নামমাত্র কাজ হলেও সে কাজ টেকসই হয়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, কান্দিউড়া ইউনিয়নে মোট ১৮১জন শ্রমিক নিয়ে ৩টি প্রকল্প দেওয়া হয়। একটি প্রকল্পের সভাপতি ওই ওয়ার্ডের সদস্য রোকুনুুুুজ্জামান। তার প্রকল্পে ৬১জন শ্রমিকের তালিকা দেওয়া হয়। প্রকল্পটি নেওয়া হয় বাঘমারা মসজিদ থেকে সাইফুল ব্যাপারীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার সংস্কার ও উন্নয়নে। কিন্তু সে প্রকল্পে কোন শ্রমিক কাজ করেনি। ট্রলিতে মাটি ভরে রাস্তায় ফেলা হয়। সামান্য মাটি ফেলেই শ্রমিকদের মাধ্যমে টাকা উঠিয়ে প্রকল্পের সভাপতি টাকা উত্তোলন করে নেন। এ প্রকল্পের শ্রমিক হিসেবে ইউপি সদস্য রোকনুুজ্জামানের মাতা তাজমহল আক্তারের নাম রয়েছে। নাম রয়েছে তার চাচা মোসলিম উদ্দিন ও দুই চাচী রেখা ও নাজমা আক্তারের। যারা সবাই ধনী। তাদের নাম শ্রমিকের খাতায় তুলে সমুদয় টাকা ওই ইউপি সদস্য হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে ৬১জন শ্রমিকের তালিকায় যারা অন্তর্ভুক্ত তাদের অনেকেই ধনী ও ওই প্রকল্প সভাপতির আত্মীয় স্বজন। প্রশ্ন উঠেছে প্রকল্পের সভাপতি যদি তার নিজ মাতা ও ধনী চাচা চাচীদের নাম দিয়েই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চান সে কাজ কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তা আর প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় থাকতে হয়না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরজমিন তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবেন কিনা এমন দাবি করেছেন এলাকাবাসী।