| |

Ad

শেরপুরের গারো পাহাড়ে লেবুচাষের উজ্জল সম্ভাবনা

আপডেটঃ 1:30 pm | September 03, 2019

রেজাউল করিম, শেরপুর থেকে: শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ে লেবুচাষের উজ্জল সম্ভাবনা রয়েছে। গারো পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া লেবু চাষের অত্যান্ত উপযোগী। পরীক্ষামূলকভাবে লেবুচাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন কৃষক আব্দুল বাতেনসহ আরো অনেকেই। আব্দুল বাতেন (৪০)উপজেলার হলদি গ্রামের মো. মফিজ উদ্দিনের ছেলে। ২ ছেলে ১ মেয়েসহ ৫ সদস্যের পরিবার আব্দুল বাতেনের। তিনি সংসার জীবনে ৭বছর প্রাইভেট কারের ড্রাইভারী করে পরিবারের সদস্যদের জীবিকা নির্বাহ করেন। অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে চলছিল তার সংসার। ২০১৩ সালে ৪ একর জমিতে তিনি লেবুসহ বিভিন্ন জাতের মিশ্র ফলচাষ শুরু করেন। চাষকৃত ফলের মধ্যে রয়েছে কাগুজীক্রস জাতের লেবু, মিডলেস এলাচি লেবু, জারা জাতের লেবু ও ভারতীয় কমলাসহ বারি-২ মাল্টা, থাই জাম্বুরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২ হাজার গাছ রয়েছে তার বাগানে।এ বাগানে রয়েছে ৬০ টি আ¤্রপালি গাছসহ ৫০টি পেঁপে গাছ। বাগান গড়ে তুলতে আব্দুল বাতেনের ব্যয় হয় প্রায় ৩ লাখ টাকা। তিনি জানান, ৬ মাস পর থেকেই শুরু হয় লেবুসহ বিভিন্ন ফলের উৎপাদন। বাগানের পরিচর্যা জন্য একজন শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। তাকে দিতে হয় মাসে ১০ হাজার টাকা। বর্তমানে নিয়মিত উত্তোলন ও বাগান থেকেই বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন জাতের ফল ও লেবু। এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে এসে ফরিয়ারা তা কিনে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে লেবুর দাম কিছু কম। ১০০ লেবু ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভরবছর উৎপাদন হয় তার বাগানে লেবু। এ বছর ৬০ টি আ¤্রপালির গাছ থেকে ১০ মণ আম উৎপাদন হয়েছে। বিক্রি হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। সবকিছু মিলে প্রতি বছর যে পরিমাণে ফল বিক্রি হয় তাতে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় হয় তার। তবে এ টাকা তিনি অন্য কাজে খরচ না করে তার আরও ৮ একর পতিত জমিতে ফলের বাগান বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করছেন তিনি। তাই বাগান থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে নতুন বাগান সৃজন করছেন তিনি। আব্দুল বাতেন বলেন, সরকারী ভাবে আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলে পতিত জমিগুলোতে বাগান করে আরও বেশি লাভবান হওয়া যেতে পারে। বাতেনের সফলতা দেখে আশপাশের অনেকেই লেবুসহ বিভিন্ন জাতের ফলের বাগান করে তারাও সাবলম্বি হয়েছেন।