| |

Ad

হেযবুত তওহীদের ছয় দফার দাবীতে ময়মনসিংহে সংবাদ সম্মেলন

আপডেটঃ 12:58 pm | August 31, 2019


ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ঃ সারা দেশের ন্যায় ময়মনসিংহ জেলা হেযবুত তওহীদের উদ্যোগে সীমাহীন অপপ্রচার, হত্যার হুমকি, হামলার উস্কানির ফতোয়া দিয়ে দাঙ্গাসৃষ্টির ষড়যন্ত্র কারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে। গতকাল সকাল ১১ টায় নগরীর ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে হেযবুত তওহীদ জেলা কমিটি। ময়মনসিংহ জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি মোঃ রহমত উল্লাহ রানার সভাপতিত্বে এ সময়ে বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রধান মোঃ এনামুল হক বাপ্পা, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান হাবিব,অর্থ সম্পাদক রাজিব আহম্মেদ, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মাসুদুর রহমান, আইন সম্পাদক কাইয়ুম সরকার প্রমূখ।
মোঃ এনামুল হক বাপ্পা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্ননের উত্তর দেন।
মোঃ রহমত উল্লাহ রানা বলেন, ‘১৯৯৫ সালে করটিয়ার দাউদ মহলে হেযবুত তওহীদ প্রতিষ্ঠা থেকেই এ আন্দোলনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে সেই শ্রেণিটি যারা ইসলামকে তাদের রুটি-রুজির মাধ্যম বানিয়ে নিয়েছে এবং যারা অপরাজনীতিতে ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করে এ পর্যন্ত বিভিন্ন জাতিবিনাশী কর্মকা- ঘটিয়েছে। এ শ্রেণিটি জনগণের কাছে হাজারো বিভ্রান্তিমূলক অসত্য তথ্য, গুজব, বানোয়াট বক্তব্য প্রচারকরে হেযবুত তওহীদের মতো মহানএকটি আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য চেষ্টা করেএসেছে। শুধু তাইনয় ,ধর্মান্ধ জনগোষ্ঠীকে লেলিয়ে দিয়েছে, হত্যা করতে প্ররোচনা দিয়েছে। এ পর্যন্ত তারা আমাদের চারজনকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে। বহু জনকে আহত করেছে, বহু বাড়িঘর ভস্মীভূত করেছে, লুটপাট ভাঙচুর চালিয়েছে, বহুসদস্যকে বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করে দিয়েছে। সম্প্রতি এই শ্রেণিটি আরও ব্যাপক পরিসরে দেশজুড়ে সীমাহীন অপপ্রচার, হত্যার হুমকি, হামলার উস্কানির ফতোয়া দিয়ে দাঙ্গাসৃষ্টির ষড়যন্ত্রে গভীর ভাবে লিপ্ত হয়েছে।’
হেযবুত তওহীদ আল্লাহ-রসুলের প্রকৃত ইসলাম নিয়ে দাঁড়িয়েছে দাবি করে আন্দোলনটির জেলা সভাপতি বলেন, ‘ হেযবুত তওহীদ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে নিঃস্বার্থ ভাবে অবদান রেখে চলেছে। এ পর্যন্ত লক্ষাধিক জনসভা, সমাবেশ, সেমিনার, আলোচনা অনুষ্ঠান, প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী, র‌্যালি ইত্যাদি সারা দেশে করেছে। আমরা আল্লাহর কোর’আন ও শেষ রসুল মোহাম্মদ (সা.) এর আদর্শ পরিপন্থী একটি কথাও বলিনি। আমরা কেবল ধর্মব্যবসায়ীদের ওই সব বাড়াবাড়ির সমালোচনা করেছি যেগুলো আল্লাহ ও রসুল (সা.) এর আদর্শের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও তারা ইসলামের নামে চালিয়ে দিতে চায় এবং তার মাধ্যমে প্রগতির পথকে রুদ্ধ করতে চায়। তাদের বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে বললে কেউ কাফের-মুরতাদ হয়ে যায়না। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে তারা সুপরিকল্পিতভাবে আমাদেরকে ইসলাম বিদ্বেষী,মুরতাদ, কাফের, বাতিল, খ্রিষ্টান, গোমরাহ, ধর্ম অবমাননা কারী, কোর’আন-হাদিস অস্বীকার কারী হিসেবে ফতোয়া দিচ্ছে। তাদের এসব ফতোয়ায় প্ররোচিত হয়ে তাদের অন্ধঅনুসারীরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে- হেযবুত তওহীদের শীর্ষনেতা জনাব মোঃ হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমও হেযবুত তওহীদের সদস্যদের জবাই করা হবে, হত্যা করা হবে, মাথাকাটা হবে, বিনা জানাজায় দাফন করা হবে, কবর দেওয়া হবে, পুড়িয়ে হত্যা করা হবে ইত্যাদি।’
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্রমাগত হুমকির প্রেক্ষিতে কয়েকটি জেলায় আমরা মামলা দায়ের করেছি।কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।অথচ আইন সবার জন্যই সমান। আলেম-ওলামা হলেই কেউ আইনের উর্ধ্বে উঠে যায় না। আমাদের দাবি,আইসিটি আইন লঙ্ঘন কারী, ওয়াজে অপপ্রচারকারী ও হুমকিদানকারী যে কোন ব্যক্তিকে এবং ইতঃপূর্বে দায়েরকৃত মামলায় আসামীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।’তিনি এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।