| |

Ad

খবরের ফেরিওয়ালা বাদলের কষ্টের খবর কেউ রাখেনা

আপডেটঃ 2:34 pm | August 24, 2019


সাইফুল আলম দুলাল :-কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : খবরের ফেরিওয়ালা। খবরের কাগজ নিয়ে ছুটাই যার কাজ। সকাল থেকে শুরু হয় তার কার্য দিবস। কাজ চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। প্রতিদিনকার একবেলাও বিরাম নেই তার। আবহাওয়া ভালো থাকলেও তিনি খারাপ থাকলেও তিনি। সেই তিনি হলেন পত্রিকা বিক্রেতা দুরন্ত বাদল মিয়া। যার বয়স ষাটের কাছাকাছি। বয়স হলেও তিনি এখনো দুরন্ত। কথাও বলেন দুরন্তভঙ্গিতে। সবার সাথে মিল মিশের সর্ম্পক্য গড়েছেন তিনি। পাঠকের চাহিদা মত সবার হাতে হাতে পত্রিকা পৌছে দেন নিয়মিত। পাঠকরা প্রতিদিন তার মাধ্যমে দেশ বিদেশের খবর পেলেও তার জীবন সংগ্রামের খবর কারো চোখে পড়েনা। পত্রিকা বিক্রেতা বাদল মিয়া জানান, ১১বছর বয়স থেকেই এ পেশায় নামেন। তিনি তখন ৬ষ্ঠ শ্রেনির ছাত্র। এসময় তার বাবা আলাউদ্দিন মারা গেলে অভাব অনটনের সংসারে তাকে বেছে নিতে হয় এ পেশা। এ পেশায় জড়িয়ে তার আর লেখাপড়া করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, ১৯৭০সালে শুরু করেন এ পেশা। তখন পুরোনো পত্রিকা বলতে দৈনিক সংবাদ, ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, বাংলার বাণী ও আজাদী পত্রিকার কাটতি ছিল। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ, আঠারবাড়ি, সোহাগী, কেন্দুয়া ও মদন উপজেলায় পত্রিকা বিক্রি করতেন। গ্রাহক ছিল প্রায় ৫শত। দিনে দিনে তার গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে এখন ১হাজার ছাড়িয়েছে। তবে এ কাজ এখন আর তিনি একা করতে পারেন না। সংসারে টানাপড়েন থাকায় নিজ ছেলেদেরও এ পেশায় জড়িয়ে ফেলেছেন। তার দুই ছেলেও এখন পত্রিকা বিক্রি করে। তবে ১ছেলে সামনে এসএসসি পরীক্ষার্থী। এখন মদন উপজেলায় পত্রিকা বিক্রি করেন না। পত্রিকা বিক্রি করে যা আয় হয় এজেন্টের দেনা পরিশোধ করে পুরো সংসার চলেনা। তিনি বলেন, ২০০১সালে কিশোরগঞ্জ থেকে পত্রিকা আনার সময় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হলে তার বাম পা ভেঙ্গে যায়। টাকার অভাবে সঠিক চিকিৎসা না হওয়ায় এখনো পায়ে ব্যথা হয়। তিনি জানান, এজেন্টের টাকা পরিশোধ করতে যেয়ে অগ্রনী ব্যাংকসহ কয়েকটি এনজিও থেকে লোন নিয়েছেন তিনি। পত্রিকা বিক্রির কমিশন ঋনের কিস্তি পরিশোধেই চলে যায়। তনি বলেন, বয়স হয়েছে। শরীরও ভালো যাচ্ছেনা। সংসারের হাল ধরে রাখতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তার প্রতিদিনের চলা কোন রকমে ঠিক রেখেছেন। পত্রিকা বিক্রির আয়ে সংসারের খরচ মিটিয়ে আসল ঋন শোধ পরিশোধ করতে পারছেন না। প্রতিদিন ভোরে দুরন্ত বাদল মিয়া ময়মনসিংহ যান। সেখান থেকে পত্রিকা এনে ঈশ্বরগঞ্জ, আঠারবাড়ি, সোহাগী ও কেন্দুয়ায় পত্রিকা বিক্রি করেন। আগে প্রতিদিনকার পত্রিকা আনতেন কিশোরগঞ্জ থেকে। বাদল মিয়ার শৈশব কেটেছে ময়মনসিংহ শহরে। পরে বাবা মারা গেলে আঠারবাড়ি বাজারের তেলুয়ারী গ্রামে নানার বাড়িতে চলে আসেন। এখনো তার পরিবার সেখানেই রয়েছে। তিনি আকুতি করে বলেন, সরকারী কোন তহবিল থেকে কোন অনুদান কিংবা বিত্তশালী কোন ব্যক্তির আর্থিক সহযোগিতা তার খুবই প্রয়োজন। জীবনের পুরো সময় মানুষের দ্বারে দ্বারে খবর পৌছে দিয়ে শেষ করেছি। কিন্তু নিজের পরিবারের অভাব ও দায় দেনা এখনো মিটাতে পারছিনা। আর্থিক সহযোগিতা পেলে পায়ের সঠিক চিকিৎসা ও দায় দেনা পরিশোধের একটা বিহিত হতো।