| |

Ad

শেরপুর-চন্দ্রকোণা-পরাণগঞ্জ-ময়মনসিংহ রহমতপুর ৫২ কি.মি. নতুন সড়ক হচ্ছে, দূরত্ব কমবে ২০ কি.মি

আপডেটঃ 2:10 pm | August 18, 2019

ময়মনসিংহ ব্যুরো : শেরপুর জেলাসহ ব্রহ্মপূত্র নদ পাড়ের লাখ লাখ জনগোষ্ঠীর চলাচল সহজ ও গতিময় করার মাধ্যমে এলাকার অর্থনৈতিক বাণিজ্যিক ও সমষ্ঠিক উন্নতির লক্ষ্যে শেরপুর (কানাসাখোলা)-চন্দ্রকোণা- নারায়নখোলা-রামভদ্রপুর-পরাণগঞ্জ-ময়মনসিংহ রহমতপুর বাইবাস পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। এসব সড়ক সড়ক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের ছিলো তা সওজে নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পত্র দেয়া হয়েছে। এই সড়কটি নির্মিত হলে রাজধানী ও বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের সাথে শেরপুরের দূরত্ব কমবে ২০ কিলোমিটার। পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয় ও দর্শণীয় স্থান গারো পাহাড়ের পাদদেশে পর্যটন সুবিধা আরো বিকাশমান ঘটবে। তাছাড়াও ঢাকা থেকে সবচেয়ে কম ২০০ কিলোমিটার দূরত্বের ভারতীয় সীমান্তে ইমিগ্রেশনসহ নাঁকুগাও স্থলবন্দরের সাথে যোগাযোগ সেতুবন্ধন তৈরী হবে। এতে দুদেশের মাঝে বিভিন্ন পণ্য আমদানী-রপ্তানীসহ ব্রহ্মপূত্র পাড়ের চরাঞ্চলের উৎপাদিত শাক-সবজিসহ কৃষকের উৎপাদিত পণ্যসমূহ প্রশস্ত সড়কে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিবহন সহজতর হবে। এতে মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হবে। নকলা ফাউন্ডেশনের এই সড়কটি নির্মাণের দাবী তুলে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ নজরুল ইসলামের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ওই অঞ্চলবাসীর দীর্ঘ লালিত স্বপ্নের এই সড়কটির বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্চে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে দেশের সড়ক যোগাযোগকে ঢেলে সাজানোর মহাপরিকল্পণা নেয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শেরপুরবাসীর যোগাযোগ এবং ওই অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের পরিবহন সহজতর করার লক্ষ্যে সরকার এই সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। সড়কটি নির্মিত হলে যোগাযোগ সহজীকরণ ছাড়াও ওই অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতির পাশাপাশি সার্বিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
গত ২২জুন ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমী (নেপ) অডিটরিয়ামে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বিআরটিসি ও বিআরটিএ ময়মনসিংহ অঞ্চলের কার্যক্রম সম্পর্কে এক গণশুনানী অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার ময়মনসিংহস্থ স্টাফ রিপোর্টার মো. নজরুল ইসলাম শেরপুরবাসীর সড়কপথে চলাচলের দুর্ভোগ লাঘবে শেরপুর (কানাসাখোলা)-চন্দ্রকোণা- নারায়নখোলা-রামভদ্রপুর-পরাণগঞ্জ-ময়মনসিংহ রহমতপুর বাইবাস পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার নতুন একটি সড়ক ও ব্রহ্মপূত্র নদের উপর আরেকটি ব্রীজ নির্মাণের দাবী জানান। তার দাবীর প্রেক্ষিতে অবিলম্বে ওই সড়ক ও ব্রহ্মপূত্র নদের উপর সেতু নির্মাণের আশ্বাস প্রদান করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম । সচিবের রেজ্যুলেশনে এই দাবীটিও অর্ন্তভূক্ত করা হয়।

সড়ক বিভাগ ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ওয়াহিদুজ্জমান জানান, শেরপুর (কানাসাখোলা)-চন্দ্রকোণা- নারায়নখোলা-রামভদ্রপুর-পরাণগঞ্জ-ময়মনসিংহ রহমতপুর বাইবাস পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের। এটি সড়ক বিভাগে ন্যস্থ করার জন্য পত্র দেয়া হলে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা করে ওই সড়কটি সড়ক বিভাগে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি গেজেট আকারে প্রকাশ হবে। এরপর রাস্তার ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রফর্মা (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং প্রকল্পটি একনেকে পাস হলে বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে। তনি আরো জানান, আঞ্চলিক মহাসড়ক হিসেবে এই সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।

ময়মনসিংহ বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি, শেরপুর প্রেসক্লাব ও শেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ও সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম আধার বলেন, রাজধানী ও বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের সাথে সড়কপথে চলাচলে শেরপুর জেলাবাসীর প্রধান দুঃখ ও কষ্টের বিষয় হলো শম্ভুগঞ্জে রাস্তার উপর ময়লার ভাগারের পঁচা দুর্বিসহ দুর্গন্ধ ও টোলপ্লাজায় যানজট। এখানে দীর্ঘসময় যানজটে আটকা পড়ে থাকতে হয়। এতে সময় ও অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। এই দুর্ভোগ নিরসনে একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণে শেরপুরবাসীর দাবীটি ছিলো দীর্ঘদিনের। শেরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের সীমাহীন দুর্ভোগ দূরীকরণে শেরপুরের কানাসাখোলা-চন্দ্রকোণা-পরাণগঞ্জ-ময়মনসিংহ রহমতপুর ৫২ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগটি সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি নির্মিত হলে শেরপুরবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকবেন।
ময়মনসিংহ বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম জানান, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবী ছিলো শেরপুরের সাথে রাজধানী ও বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহের যোগযোগ সহজতর করা। শেরপুর (কানাসাখোলা)-চন্দ্রকোণা- নারায়নখোলা-রামভদ্রপুর-পরাণগঞ্জ-ময়মনসিংহ রহমতপুর বাইবাস পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কটি মানসম্মতভাবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।