| |

Ad

দুর্গাপুরে আদিবাসী এলাকায় সু-পেয় জলের কষ্ট

আপডেটঃ 2:25 pm | August 04, 2019


দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি;-স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও দুর্গাপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তবর্তী ৭টি আদিবাসী গ্রামে বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব থাকায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বাধ্য তারা পাহাড়ি ছড়ার ময়লা যুক্ত ঘোলা পানি, ঝড়না অথবা কুয়ো বা ইন্দরার ময়লা পানি পান করতে হয়।

এ নিয়ে রোববার সরজমিনে আদিবাসী গ্রাম গুলোতে গিয়ে বিশুদ্ধ পানির অভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে দুর্ভোগের শিকার পরিবারের লোকজন জানান, ভারতীয় সীমান্তবর্তী আদিবাসী অধ্যুষিত গোপালপুর, দাহাপাড়া, থাউসালপাড়া, ভবানীপুর গ্রামসহ অন্যান্য পাড়ায় আদিবাসীদের জন্য সরকারি ভাবে কোন টিউবওয়েল কিংবা গভীর কুয়ো তৈরী করে না দেয়ায় তাদের ভাগ্যে জুটছে না বিশুদ্ধ পানি। সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার বইলেও সীমান্তবর্তী আদিবাসী পাড়া গুলোতে নেই কোন উন্নয়নের ছোঁয়া। গ্রামে দু‘এক জন অধিক অর্থ ব্যায় টিউবওয়েল বসালেও নীচে পাথর থাকায় কিছুদিন পানি দিলেও পরবর্তিতে বন্ধ হয়ে যায়। ওই গ্রাম গুলোতে যারা, দিন আনে দিন খায় এমন হত-দরিদ্র সুবিধা বঞ্চিত লোকজনের পক্ষে টিউবওয়েল বসানো কিংবা গভীর কুঁয়ো তৈরী করা সম্ভব নয়। একই অবস্থা বিরাজ করছে ওই ইউনিয়নের ফান্দা, বারমারী, ভরতপুর এলাকার গ্রাম সীমান্তবর্তী গ্রাম গুলোতেও। বিশুদ্ধ পানীয় জলের দুভোর্গের কথা বলতে গিয়ে আদিবাসী পরিবারগুলো বলেন, কোন কোন সময় অন্য গ্রাম থেকেও পানি কাঁধে করে বয়ে এনে পান করতে হয়। গ্রামের কয়েকটি স্বচ্ছল পরিবারের লোকজন অধিক অর্থ ব্যায় করে টিউবওয়েল বসিয়েছেন কিন্তু সেগুলোতেও রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত আয়রণ। অপরদিকে হত-দরিদ্র পরিবারগুলো বেশ কয়েক বছর পুর্বে আর্থিক অনটনের মধ্যেও নিজেরা চাঁদা দিয়ে বন বিভাগের টিলার নিচে পাঁকা চাঁকটি বসিয়ে কুঁয়ো তৈরী করে খাবার পানি সংগ্রহ করলেও শুকনো মৌসুমে ওই কুয়োর পানি যায়। এ নিয়ে ওই এলাকার তামিল মারাক (৫৯) বলেন, এত বছর পার হলো, এখনো বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারলাম না। ব্রিলিয়ন সাংমা (৬৫) বলেন, আদিবাসী লোকজনের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে একটি গভীর টিউবওয়েল বসানোর জন্য কত জনের কাছে গেলাম, কত আবেদন করলাম কোন কাজই অইলো না, উল্টো মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনাইয়া দেয়।

দুর্গাপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুর আলম সাজুর কাছে বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদিবাসী পাড়া গুলোতে টিউবওয়েল বসাতে হলে পাথর সড়িয়ে প্রায় সাত আটশ ফুট গভীর নলকুপ বসাতে হবে, তাতে খরচ হবে প্রায় ৩০-৪০ লক্ষ টাকা। মাটির নিচ থেকে পাথর সড়িয়ে যদি বিকল্প হিসাবে গভীর কুঁয়ো বসানো যায় তাহলেও আদিবাসীদের পানি সমস্যা কিছুটা হলেও দূর হবে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জান্নাতুল ফেরদৌস আরা বলেন, ওই গ্রাম গুলোতে সু-পেয় পানির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা আমার রয়েছে। তবে মাটির নীচে পাথর থাকায় এই গ্রাম গুলোতে কোন নলকূপ বসানো হচ্ছে না। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ওই এলাকায় রিংওয়েল বসিয়ে সু-পেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। পানির আরেক নাম জীবন, আর এই জীবন বাঁচাতে অপেক্ষার প্রহর গুনছে ওই এলাকার খেঁটে খাওয়া হাজারো আদিবাসী জনগন।