| |

Ad

মহারশি নদী থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন,হুমকির মুখে প্রাণ-বৈচিত্র

আপডেটঃ 2:17 pm | August 04, 2019

এসএম নয়ন, ঝিনাইগাতী প্রতিনিধি :- শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদী থেকে বেপরোয়াভাবে চলছে বালু উত্তোলন। এতে পরিবেশের ভারসাম্য ও প্রাণ বৈচিত্র হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। জানা যায়, স্থানীয় আসাদুজ্জামান স্বপন হলদীগ্রাম মৌজার এক একর জমি থেকে বালু উত্তোলনের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে লিজ প্রাপ্ত হন। অভিযোগ রয়েছে এক একর জমি থেকে বালু উত্তোলনের অনুমোতি এনে প্রায় ২০ একর জমি থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করে আসছেন। নিয়ন অনুযায়ী এক একর জমির উপর ৭টি শ্যালোমেশিনে বালু উত্তোলন করার কথা। কিন্তু লিজএরিয়ার বাইরে থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। গত কয়েক দিনে সামাজিক বনের প্রায় ২ হেক্টর জমির উডলড বাগান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে । সামাজিক বনের গোমড়া উডলড বাগানের সাবেক সভাপতি সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের ইউপি সদস্য শাহ জাহান, আহ্বায়ক ফজলুর রহমান, সদস্য জামাল মিয়া, আব্দুল গণি, আবু সামাসহ গ্রামবাসীরা জানায়, বালু মহালের ইজারাদার প্রায় ১০ একর জমি থেকে ২৫/৩০টি মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছেন। তারা আরও জানান, লিজ এরিয়ার বাইরে থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলনের ফলে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। এতে গোমড়া সামাজিক বনের প্রায় ২ হেক্টর বাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া গোমড়া, সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গ্রামের ২হাজার মানুষ ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে। এছাড়া উত্তোলনকৃত বালু বন-বিভাগের জমিতে অবাধ ব্যবহার ও পরিবহণের কারনে রাস্তাঘাট ভেঙ্গে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, প্রভাবশালী বালু উত্তোলনকারীরা নিয়ম অমান্য করে বালু উত্তোলন করে আসছে। তিনি বলেন,লিজ এরিয়ার বাইরে সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে নো ম্যান্সল্যান্ড এলাকা থেকে চলছে বালু লুটপাট। সন্ধ্যাকুড়া বিট কর্মকর্তা রাশেদ ইবনে সিরাজ জানান, বালু উত্তোলনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমানা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে ইজারাদার লিজ এরিয়ার বাইরে থেকে বেপরোয়া ভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে সামাজিক বন ধ্বংস ও নদী ভাঙনের পাশাপাশি প্রাণ-বৈচিত্র হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে বালু মহালের ইজারাদার আসাদুজ্জামান স্বপনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি লিজ এরিয়ার বাইরে থেকে কোন বালু উত্তোলন করছি না। আমার এরিয়ার ভিতরে ৭টি শ্যালো মেশিন রয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদুল হাসানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বনের জমি ধ্বংসের বিষয়ে বন-বিভাগের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়নি। জানানো হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।