| |

Ad

ফুলবাড়িয়ায় হাতিলেই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদ বাগান যে বিদ্যালয়ের শিশুরা বৃক্ষপ্রেমী

আপডেটঃ 3:05 pm | July 28, 2019

মো. হেলাল উদ্দিন উজ্জ্বল, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :- ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণে রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নে হাতিলেইট গ্রাম। ১৯৭০ সালে গ্রামের নামের সাথে মিল রেখে ৫২ শতাংশ জমির উপর গড়ে তোলা হয় হাতিলেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে ৫ শিক্ষক ও একজন নৈশ্যপ্রহরী কাম দপ্তরি রয়েছেন।

শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ২৭০ জন কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃক্ষপ্রেমি হয়ে গড়ে উঠছে প্রাথমিকের গন্ডিতেই।
৩য় থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সবাইকে একদিন বিদ্যালয়ের এক কক্ষে নিয়ে বসেন প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম। ফুল ও ফল গাছের চারা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করেন। সকল শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বাড়িতে যে কোন ফুল ও ফল গাছে চারা অব্যহৃত পটে লাগাতে বলেন। পট না থাকলে নারিকেলে আইচার ভিতরে ৬০% মাটি ও ৪০ % পচা গোবর মিকসড করে গাছ বা গাছের বীজ পটে লাগাতে হবে। অল্প পরিমান পনি দিয়ে ৪/৫ দিন ছায়ায় রাখতে হবে। যে কোন পটে গাছ লাগাতে হলে পটের নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য ছিদ্র রাখতে বলা হয়।

যে দিন চারা অথবা বীজ লাগাবে তার ঠিক একমাস পরে সবাই গাছ গুলো বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতে বলা হয়। শিক্ষার্থীরা পটে কিভাবে চারা লাগাবে তা বিদ্যালয়ের হুয়াইট বোর্ডে লিখে ও চিত্র একে দেখিয়ে ছিলেন প্রধান শিক্ষক। এক মাস শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের ফাঁকে খোঁজ নেয়, কে কি গাছ লাগাচ্ছে, কে কে গাছ লাগায় নি, গাছ কিরকম হয়েছে, গাছের যতœ কেমন করছে। এভাবে সবাইকে বাড়িতে গাছের বীজ বা চারা লাগিয়ে পরিচর্যা করার পরামর্শ দেয়। এরমধ্যে তিনি নিজেও বেশ কিছু ফুল ও ফল গাছের চারা ক্রয় করেছেন বিদ্যালয়ে লাগানোর জন্য। ঠিক এক মাস পর বিদ্যালয়ের ৪৭ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী ৪৭ টি ফুল ও ফল গাছের চারা নিয়ে আসেন। বর্তমানে ছাদ বাগানে আড়াই শতাধিক ফুল ও ফল গাছ রয়েছে।

বাগানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতে আড়াই শতাধিক ফুল ও ফল গাছ। ফুল গাছে ফুটেছে বাহারি রঙের ফুল। বগানে রয়েছে আম,মাল্টা, জম্বুরা,লটকন কদবেল, ড্রাগন,চেরি করমচা, লিচু, সফেদা ফলসহ স্থল পদ্ম ফুল, আ্যরোমেটিকজুঁই, কামিনি, সিলভিয়া, হাছনা হেনা, চায়না টগর, দেশি টগর, চিতা লিলি, লিলি, হাজারি বেলি, গন্ধরাজ, নীলকণ্ঠ দোপাটি, ডায়ান্থাস, গোলাপ (১০ প্রকার) পুর্তুলিকা (১১ প্রকার) ক্যালানুচু, মরিচা ফুল, গাধা (৪ প্রকার) এলামুন্ডা, পারুল, নন্দিনি গোলাপসহ প্রায় আড়াই শতাধিক ফুল ও ফল গাছ। তবে ফল গাছ গুলো বড় হয়ে উঠছে। ধারনা করা হচ্ছে আগামী বছর থেকে ফল আসতে শুরু হবে।
বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাড়ি থেকে কে কি ফুল ও ফল গাছের চারা নিয়ে এসেছে তা প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম বিদ্যালয়ে একটি রেজিষ্ট্রার খাতা মেন্টেন করেছে। রেজিষ্ট্রার খাতায় শিক্ষার্থীর নামের পাশের শ্রেণি ও রোল নাম্বার এবং গাছের নামসহ পটের সিরিয়াল লিখা রয়েছে। যার যার গাছের চারা তারাই যেন পরিচর্যা করেন। সাদ বাগান করার পর তৃতীয় শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দিয়ে ১৫ জনের করে একটি করে গ্রুপ তৈর করে দেন। গ্রুপের সদস্য বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের আধঘন্টা আগে চলে আসে।

প্রধান শিক্ষকের সাথে ৩০ মিনিট সাদ বাগানের পরিচর্যা করেন। গাছের পরিচর্যা শেষে সাবান দিয়ে হাত মুখ ধৌত করে শ্রেণি কক্ষে যায়। এভাবে প্রতিটি গ্রুপ এক সপ্তাহ করে গাছের পরিচর্যা করে থাকে। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে গাছ ও পরিচর্যার উপর শিক্ষার্থীদের নাম্বার দেয়া হবে। বাড়তী কোন সৃজনী আনতে হবে না বাড়ি থেকে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাবিবা,আরিফা,হামিদা, কাকলীসহ কথা হয় অনেকের সাথে। তারা বলেন, স্যার যে ছাদ বাগান করবে প্রথমে আমরা বুঝতে পারিনি। আমাদের নিয়ে ফুল ও ফলগাছ নিয়ে গল্প করতো, আর প্রতিদিন বিদ্যালয়ের আঙিনা পরিস্কার পরিচ্ছন করাতো, সাথে স্যার নিজেও করতেন। বাড়ি থেকে গাছের চারা নিয়ে আসলে আমাদের নাম, গাছের নাম ও রোল নাম্বারসহ খাতায় লিখে রাখতো।

এখন স্কুলে এসেই ছাদে গিয়ে খুঁজ নিয়ে দেখি কার কার গাছে ফুল ফুটেছে। স্যার ছাদ বাগান করায় অনেক ফুল ও ফল গাছের সাথে আমরা পরিচিত হয়েছি। যা আগে কখনো দেখিনি। বাগানে মৌমাছি, ছোট ছোট পাখি ও প্রজাপতি আসে। দেখতে অনেক ভালো লাগে।
প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীরা বৃক্ষরোপনে উৎসাহিত করা। বিদ্যালয়ের ৮০% শিশুরা ছোট থেকেই যেন বৃক্ষ প্রেমী হয়ে গড়ে উঠেন। শনিবার শিশু শ্রেণি, রবিবার ১ম শ্রেণি, সোমবার দ্বিতীয় শ্রেণি,মঙ্গলবার তৃতীয় শ্রেণি, বুধবার চতুর্থ শ্রেণি ও বৃহস্পতিবার ৫ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে বাগান ভিজিটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ফুল,ফল ও ওষুধি গাছের সাথে পরিচিত করে গড়ে তোলা হচ্ছে।