| |

Ad

কুটুরাগাঁও গ্রামের নিরীহ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের হয়রানী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারীর নামে দুর্নীতির অভিযোগ সরকারী রশিদ বিহীন মোটা অংকের টাকা আদায়

আপডেটঃ 12:18 pm | July 28, 2019

মো: নাজমুল হুদা মানিক ॥ তারাকান্দা উপজেলার কুটুরাগাঁও গ্রামের নিরীহ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নানা কৌশলে হয়রানী করা হচ্ছে বলে নির্বাহী প্রকৌশলী, বিক্রয় ও বিতরন বিভাগ-৩, শম্ভুগঞ্জ, ময়মনসিংহ বরাবরে অভিযোগ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ অফিসের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হলেও এসব টাকার কোন সরকারী রশিদ দেয়া হচ্ছেনা। রশিদ বিহীন টাকা আদায় করে এক শ্রেনীর অসাধু কর্মচারী লুটপাটে মেতে উঠেছে বলে বিদ্যুৎ গ্রাহক গ্রামবাসী জানায়।

ভুক্তভোগী মহল সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে বিদ্যুৎ অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর দুর্নীতি ও অনিয়ম তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবীতে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগের মত জনগুরুত্বপুর্ন বিষয়কে আমলে নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থাপুর্বক এলাকার সাধারন বিদ্যুৎ গ্রহকদের হয়রানীর হাত থেকে রক্ষা পুর্বক অবৈধ বেআইনী কাজে জড়িত ব্যাক্তিদের দৃষ্টান্তমুলক শান্তির ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বিষয়টি সদয় অবগতির জন্য প্রধান প্রকৌশলী, বিদ্যুৎ বিভাগ, কেওয়াটখালী, ময়মনসিংহ, জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার, ময়মনসিংহ বিভাগ বরাবরে প্রেরন করা হয়েছে। ঘিটুয়ারী গ্রামের আলহাজ্ব মো: আব্দুল লতিফ অভিযোগে জানান, তারাকান্দা উপজেলার কাশিগঞ্জ এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত আর,ই অফিসের কয়েকজন কর্মচারী ও স্থানীয় আইন উদ্দিন গত ১৬ জুলাই‘১৯ আনুমানিক ১২টার সময় কুটুরাগাঁও গ্রামে এসে নিজামুল এর আবাসিক মিটার লাইন কেটে মামলা করবে বলে হুমকি দেয়। মামলার ভয়ে নিজামুল ১০ হাজার টাকা দিলে মিটারটি রেখে যায়। পরে আমার ভাগিনা শাকিল আহম্মেদ উজ্জল এর আবাসিক মিটার কেটে নিয়ে যায়। তখন বাড়ীতে কোন পুরুষ লোক না থাকায় আমার বোন আমাকে ফোন করে বলে আমাদের বাড়ীর মিটার কেটে নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় আইন উদ্দিন নামের একজন লোক তাদের সাথে রয়েছে। আইন উদ্দিন আমাদের এলাকায় মিটারের বিলের কাগজ বিতরন করে থাকে। তখন আমি তাকে ফোন করি।

আইন উদ্দিন জানায়, আপনি তারাতারি এসে আর,ই স্যারের সাথে কথা বলে মিটারের ব্যবস্থা করেন। আর,ই স্যার অফিসে চলে গেলে মামলা হয়ে যাবে। ২ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। পরে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন একই কায়দায় আ: গনি, সবুজ মিয়া, ১০নং বিশকা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আলহাজ্ব আ: কাদির, আলাল উদ্দিন এর কাছ থেকে টাকা আদায় কার্যক্রম শেষ করে ফেরার পথে আমার সাথে দেখা হয়। আর,ই সাহেব এক সাথে বেশ কয়েকজন লোক থাকায় পিছনের লোকের সাথে কথা বলতে বলেন।

পরে আইন উদ্দিনের সাথে আমার ভাগ্নের মিটারটি কাটার ব্যাপারে কথা বললে সে জানায় এই মিটারে অবৈধ সংযোগ রয়েছে। আমি মিটারটি ফেরত দেয়ার কথা বললে আইন উদ্দিন জানায়, স্যার বলেছেন ১০ হাজার টাকার কম হলে মিটার দেয়া হবেনা এবং মামলা হয়ে যাবে। তখন আমি ১০ হাজার টাকা দিয়ে মিটারটি হাতে নিয়ে দেখি ২টি তার ছাড়া অণ্য কোন অবৈধ তার নেই। তখন আমি কোনটি অবৈধ সংযোগ তার জানতে চাইলে আইন উদ্দিন বলে অবৈধ তারটি খুলে ফেলেছি। তবে মোবাইলে ছবি আছে। এদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী, বিক্রয় ও বিতরন বিভাগ-৩, শম্ভুগঞ্জ, ময়মনসিংহ বরাবরে ঘিটুয়ারী গ্রামের আলহাজ্ব মো: আব্দুল লতিফ অভিযোগ করলে বিদ্যুৎ অফিসের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেব অভিযোগকারীকে লিখিত কোন নোটিশ না দিলেও মৌখিক ভাবে জানিয়ে ছিলেন ২৪ জুলাই সকাল ১১ ঘটিকায় তদন্ত কমিটি কুটুরাগাঁও এলাকায় তদন্ত কাজ পরিচালনা করবেন। অভিযোগকারী ও এলাকার ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ গ্রাহকগন সকাল ১১টা থেকে বিকাল পোনে ৪টা পর্যন্ত তদন্ত টিমের জন্য অপেক্ষা করেন। অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগী লোকজন চলে যাওয়ার পর বিকাল ৪টায় তদন্ত টিম এলাকায় প্রবেশ করেন।

অভিযোগকারী মো: আব্দুল লতিফ দাবী করেন তদন্ত কমিটি অভিযোগকারীদের কোন কথা না শোনেই তাদের মনগড়া তদন্ত করেছে। বিদ্যুৎ চুরির নাম করে গ্রাহকদের অযথা হয়রানী করার সকল প্রকার ফন্দি ফিকির করা হচ্ছে। তিনি জানান, বিদ্যুৎ চুরি হলে বিচার হবে। কিন্তু বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারী পরিচয়ে বা নাম করে অসাধু লোকজন দুর্নীতি করে টাকা নিয়ে আতœসাৎ ও লুটপাট করছে।

গ্রামের কৃষক ও অসহায় জনগনের টাকা নিয়ে সরকারী অফিসে জমা দিলে আমাদের কোন দু:খ ছিল না। কিন্তু সরকারী অফিসের নামে টাকা উত্তোলন করে অসাধু দুর্নীতিবাজরা আতœসাৎ করবে এটা মেনে নেয়া যায় না। কোন দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে যদি অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় আর দুর্নীতিবাজরা পার পেয়ে যায় তবে দুর্নীতি বন্ধ হবে না দুর্নীতিবাজদেরকে উৎসাহিত করা হবে।

তিনি এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবী করেন।
১০নং বিশকা ইউনিয়নের সাবেক সদস্য কুটুরাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আলহাজ্ব আ: কাদির জানান, ১৬ জুলাই আমি কাশিগঞ্জ বাজারে যাই। বাড়ী থেকে আমাকে ফোন করে আমার মিটার কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারী বলে পরিচিত খোকন ও আলাউদ্দিন জানিয়েছে তাদেরকে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। পর দিন ৫ হাজার টাকা দিলে মিটার দিয়ে দেয়। আমার মিটারের বিল যথানিয়মে পরিশোধ করা আছে। নিজামুল জানায়, বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন বলেছে মিটার সমস্যা আছে।

ইউনিট কম উঠছে। মিটার কেটে ফেলা হবে। তারা আমার কাছে ৮০ হাজার টাকা দাবী করেছে। বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারী পরিচয়ে মোতালেব ১০ হাজার টাকা নিয়েছে। তারপরও মিটার কেটে নিয়ে গেছে। আজও মিটার ফেরত পাইনি। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ আছে। সবুজ মিয়া জানান, সর্ট সার্কিটে আমার মিটারের একটি তার পুড়ে যায়। তারপরও মিটার সঠিক ছিল। বিলও ঠিক ভাবেই আসছিল।

১৬ জুলাই মিটার চেক করার নাম করে মিটারটি কেটে নেয়। মিটার কেটে নেয়ার পর ২০ হাজার টাকা দাবী করে। পরে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারী পরিচয়দানকারী খোকনকে ৪ হাজার টাকা দিলে মিটারটি ফেরত দেয়। আলাল উদ্দিন জানায়, আমি বাড়ীতে ছিলাম না। বিদ্যুৎ অফিসের পরিচয়দানকারী মোতালেব সহ ২জন লোক এসে বিলের কাগজ নিয়ে যায়।

পরে তারা আমাকে মামলার ভয় দেখায়। মামলার ভয়ে আমি ৫শত টাকা দিলে বিলের কাগজ ফেরত দিয়ে যায়। মো: আব্দুল গনি জানায়, আমার বাড়ীর মিটারটি ঘরের বারান্দায় থাকলেও বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন জোর করে ঘরে প্রবেশ করে। পরে বারান্দায় এসে মিটার দেখে কোন কিছু না পেলেও মিটারে কালো দাগ আছে বলে ২ হাজার টাকা দাবী করে। মিটার কেটে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। পরে ৫শত টাকা দিলে চলে যায়।