| |

Ad

ঝিনাইগাতীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ৩০টি গ্রামের ১০হাজার মানুষ পানিবন্দি

আপডেটঃ 3:40 pm | July 13, 2019

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কোথাও উন্নতি হলেও কোথাও হয়েছে অবনতি। অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানিতে গত বুধবার উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়।এতে প্রায় ৩০টি গ্রামের শতশত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পরে। পানিবন্দি গ্রামগুলো হচ্ছে, ছুড়িহারা, দিঘিরপাড়, চতল, রামনগর, কালিনগর, দড়িকালিনগর, বালুরচর, বালিয়াচন্ডী, কোণাগাঁও, পাইকুরা, দারিয়ারপাড়, হাসলিগাঁও, জুলগাঁও, দেবোত্তরপাড়া, পাইকুড়া, কামারপাড়া, হাতিবান্ধা, মারুয়াপাড়া, রাংামাটি, কান্দোলী, বেলতৈল, বাগেরভিটা, নয়াপাড়া, উত্তর দারিয়াপাড়, ধানশাইল, বনগাঁও, মাটিয়াপাড়া, শাড়ী কালিনগর,মাঝাপাাড়া। এছাড়া অভিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের পানিতে উপজেলার সর্বত্র জ্বলমগ্ন হয়ে পরেছে। গত ১ সপ্তাহ ধরে অতি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের পানির তোরে মহারশী নদীর দীঘিরপাড়, বণ্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ ভেঙ্গে ৩টি বাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। নদীর ভাঙ্গা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করছে । মালিঝি নদীর পাগলামুখ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ ভেঙ্গে কামারপাড়া-পাগলারমুখ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছে। ঢলের পানি তোরে বানিয়াপাড়া ব্রীজ বিধ্বস্ত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছে। সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাগেরভিটা-কোচনীপাড়া রাস্তা বিধ্বস্ত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ঘাট বিধ্বস্ত ও পানির নিচে তলিয়ে থাকার পাশাপাশি ২শতাধিক পুকুরের কোটি টাকা মূল্যের মাছ ভেসে গেছে। ক্ষতি সাধিত হয়েছে কৃষকদের বীজতলাসহ শাকসবজি বাগানের। মালিঝি নদীর পানির তোরে পাগলারমুখে নব-নির্মিত কাঠের ব্রীজ ভেসে গেছে। সরেজমিনে অনুসন্ধ্যান ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে, এসব তথ্য জানা গেছে। কামারপাড়া গ্রামের মৎস্য চাষী সামছুল হক ও জাহাঙ্গীর আলম জানান তাদের মৎস্য প্রজেক্টের প্রায় ১০ লাক টাকার মাছ ভেসে গেছে। তারা আরো জানান, হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ৭৫টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। মালিকিান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম তোঁতা শনিবার বিকালে জানান, তার ইউনিয়নের শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ রয়েছে। তিনি জানান, কোথাও নৌকা আবার কোথাও কলার ভেলা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন চাঁন জানান,তার ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে পানিবন্দি দূর্ভোগ বেড়েছে । তিনি জানান, তার ইউনিয়নে অর্ধ শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোফাখ খারুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহরীয়ার পারভেজ জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় প্রায় ২০টি বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়েছে উপজেলা কৃষি অফিসার হুমায়ুন কবির জানান, ৬শ ৭০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। তন্মধ্যে ১৫ হেক্টর জমির বীজতলা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়েছে। উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. সিরাজুস সালেহীন জানান, পানিতে তলিয়ে কি পরিমাণ মাছের ক্ষতি সাধিত হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। শনিবার বিকালে উপজেলা চেয়ারম্যান এসএমএ ওয়ারেজ নাইম এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবেল মাহমুদ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান পৃথকভাবে বিভিন্ স্থানে বিধ্বস্ত রাস্তা ঘাট ও পানি বন্দি এলাকাগুলো পরির্দশণ করেন। মহারশী নদীর দিঘিরপাড় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে বিধ্বস্ত বাড়ীর মালিক শাহ্ জাহানকে ২ বান্ডেল ঢেউটিন ও ৬হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান, ইউএনও রুবেল মাহমুদ।