| |

Ad

পাকিস্তানের বিমানবন্দরে গোলাগুলিতে নিহত ২

আপডেটঃ 10:46 am | July 05, 2019

পাকিস্তানের লাহোরে আল্লামা ইকবাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বন্দুক হামলায় অন্তত দু’জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া গুলিতে আহত হয়েছেন আরো কমপক্ষে দু’জন। গুলিতে হতাহতরা সৌদি আরবে পবিত্র উমরাহ শেষে দেশে ফিরেই বিমানবন্দরে আক্রান্ত হয়েছেন।
বুধবার সকালের দিকে এই হামলা হয়েছে বলে এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
লাহোর পুলিশের ডিআইজি আশফাক আহমদ খান বলেছেন, আল্লামা ইকবাল বিমানবন্দরের পার্কিং এলাকায় শান ও আরশাদ নামের দুই বন্দুকধারী সৌদি ফেরত এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে। লাহোরের লাখোদাইর এলাকার ৩০ বছর বয়ষী বাসিন্দা জইন আলী হামলাকারীদের টার্গেট ছিলেন। তিনি ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
সন্দেহভাজন এ দুই হামলাকারীর বিরুদ্ধে আগেও অপরাধমূলক কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সন্দেহভাজন এ দুই হামলাকারীকে গ্রেফতার করেছে। জইনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল বলে পুলিশের ডিআইজি আশফাক জানিয়েছেন।
হামলায় আহত দু’জনকে উদ্ধারের পর স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

‘পাকিস্তান এখন আর স্বাধীন দেশ নয়’
এনএনবি : পাকিস্তান এখন আর স্বাধীন দেশ নয় বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন হামিদ মীর নামে দেশটির এক প্রতিথযশা সাংবাদিক।
গত ১ জুলাই ইমরান খান সরকারের সমালোচনা করে পাকিস্তানের বেসরকারী টিভি চ্যানেল ‘জিও নিউজ’ এর সাংবাদিক হামিদ মীর টুইট করেন, ‘দর্শকদের কাছে শুধু দুঃখ প্রকাশ করে আমি এটাই জানাতে পারি, জিও নিউজে যে সাক্ষাৎকারটি প্রচার শুরু হয়েছিল তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ সাক্ষাতকার কাদের নির্দেশে বন্ধ করা হয়েছে তা ষ্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে। আসলে আমরা এখন স্বাধীন দেশে বসবাস করছি না।’
পাকিস্তান টুডে জানায়, দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির একটি সাক্ষাতকার নিয়েছিলেন সাংবাদিক হামিদ মীর। সেই সাক্ষাতকার টিভি চ্যানেলে শুরু হবার কিছুক্ষণের মধ্যেই এ প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়।
পরে সেই চ্যানেলের পক্ষে জানানো হয় যে, সাক্ষাৎকারটি আর দেখানো হবে না।
এতে বেশ ক্ষুব্ধ হন হামিদ মীর। সোমবার টুইটারে এভাবে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি।
কী এমন বার্তা ছিল সেই সাক্ষাতকারে যে তা শুরুর পর পরই বন্ধ করতে হয়েছিল?
পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামিদ মীরকে দেয়া সেই সাক্ষাতকারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিভিন্ন আইনবহির্ভূত কার্যকলাপ নিয়ে চলমান একটি তদন্তের বিষয়ে কথা বলছিলেন আসিফ আলি জারদারি। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই অনুষ্ঠানটির প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়।
পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একেবারেই কোণঠাসা সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পিপিপি-র নেতা জারদারি।
দুর্নীতির অভিযোগ করা মামলায় গতমাসে গ্রেফতার হয়ে জেলও খাটতে হয়েছে তাকে। বর্তমানে বিশেষ জামিনে বেরিয়ে এসেছেন তিনি।
পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী, জামিনে থাকা রাজনীতিবিদের সাক্ষাতকার প্রচারে কোনো বাধা নেই। সুযোগটি কাজে লাগান সাংবাদিক হামিদ মীর।
জামিনে মুক্ত হয়ে সংসদের বাজেটপর্বে যোগ দিতে গেলে সংসদভবনের ভেতরেই জারদারির ওই সাক্ষাতকারটি নিচ্ছিলেন হামিদ মীর।
এদিকে জারদারির ওই সাক্ষাতকার প্রচার বন্ধ করে দেয়ায় ইমরান খান সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)-র চেয়ারম্যান বিলাওয়াল আলি ভুট্টো।
এই সরকারকে পারভেজ মুশাররফ ও জিয়ার আমলের সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি।
সোমবারই ওই ঘটনার এক প্রতিক্রিয়ায় বিলাওয়াল আলি ভুট্টো নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘কোনো কোনো সরকার শুধু কিছু বিশেষ ধরনের মন্তব্যই শুনতে পছন্দ করে। বর্তমান পাকিস্তানের সঙ্গে মুশাররফ বা জিয়ার আমলের পাকিস্তানের কোনো পার্থক্যই দেখছি না আমি।’
এদিকে হামিদ মীরের ওই টুইটের পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন ইতিমধ্যে পাকিস্তানে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই ঘটনার নিন্দা করেছেন অনেকে।