| |

Ad

ঝিনাইগাতীতে ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত আসন্ন বোর ফসলে : কৃষকের মাথায় হাত

আপডেটঃ 10:30 am | April 16, 2018

ঝিনাইগাতী সংবাদদাতা : শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার সদর সহ কয়েকটি এলাকায় নেক ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে আসন্ন বোর ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে । দেশীয় ২৬/২৮ ও হিরা ৮ ধানে ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ককেকশ হেক্টর জমির উঠতি ফসল বিনষ্ট হয়েছে । আসন্ন বোর ফসলের নামা এলকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে ধানের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হওয়ায় আশানুরুপ ফসল না পাওয়ার ফলে কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে । উপজেলার দড়িকালিনগর,বগাডবি,পাগলারমুখ,দিঘিরপাড়,বনকালি,শারিকালিনগর ও তামাগাও,ধানশাইল,বনগাও,চতল মাছপাড়া ও ঘাগড়া গ্রাম সহ অনেক জায়গায় রোগের কারণে ধানের সন্ধান মিলেনি । দুর থেকে দেখা যয় ধান পেকে আছে কাছে গেলে ধানের শিষে চিটা আর চিটা । ধান থোরের নিচের মুল অংশটুকো এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পচে যাওয়ার ফলে মরা শিষ হয়েছে । একর প্রতি ৫ থেকে ৮ মোন ধান পাচ্ছে না কৃষকরা । দেশীয় ২৬/২৮ ধানের আবাদি কৃষকরা এবারও ফসল ক্ষতি হওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে । অথচ একর প্রতি কৃষকের খরচ হয়েছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা এবার তা পুষিয়ে নিতে না পারায় দাদনের খপ্পরে পড়বে অনেক কৃষক । গত বছর আগাম বন্যায় ২টি ফসল এবার পোকা মাকড় ও ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে চিটা সহ নিরুপায় হয়ে ধানের আটি কেটে নিয়ে বাজরে বিক্রি করছে কৃষকরা । অনেক কৃষকের থোর ধানে শীল পড়ায় ধানের কিছু ক্ষতি হয়েছিল । কৃষক প্রতিনিধি ও সাবেক উপজেলা চেয়রম্যান জমশেদ আলী, বলেন ধান কেটে কৃষকের শ্রমিকের খরচ উঠছে না ধান নাই বাদ্য হয়ে কৃষকরা চিটা সহ আটি নিয়ে ৮ থেকে ১০ টাকায় প্রতি আটি বিক্রি করছে বাজারে গো খাদ্য হিসাবে । কৃষক লুৎফর রহমান ও আ: শহীদ জানান গত বছর আমন ও বোর ফসল প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসলের মুহুমুহু গন্ধ পায়নি আমরা এবার ধানের মরণব্যাধি ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে আমরা সহ অনেক কৃষক ব্যাপক ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে । তারা আরো জানান ফসলের মাঠ পর্যায়ে তদারকির অভাব ধানের বীজে ভেজাল সঠিক সময়ে ঔষধ প্রয়োগ না করার ফলে ক্ষতি গ্রস্থের মুখে পড়েছে কৃষকরা । অপর দিকে বাজরে ভেজাল কিটনাশক ব্যবহার করে প্রতারণার শিকার হয়েছে অনেক কৃষক । ১২ এপ্রিল চাপাঝুড়া গ্রামের মকবুল হোসেন স্থানীয় কৃষি বিতান দোকান থেকে নাটাবো নামে কিটনাশক ক্রয় করে ২ একর জমিতে ২৬ ধানে ২বার প্রয়োগ করে ফল পায়নি বলে দুপুড়ে মরা শিষ নিয়ে এসে দোকানে কান্নাজড়িত কন্ঠে তর্কে জড়িয়ে পড়ে । এক পর্যায়ে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় । মতিন নামে এক কৃষক ২৮ ধানে ২ একর জমিতে বার বার কিটনাশক ব্যবহার করেও কোন ফল না পাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছে । পূনরায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ আক্রমন করলে কৃষক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে না পেরে দিশাহারা হয়ে পথে নামবে বলে জানান । উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল জানান নেক ব্লাষ্ট রোগটি সবর্ত্রে এখনও ছড়িয়ে পড়েনি । কিছু এলাকায় আক্রমন করেছে গোড়ায় আক্রমন হলে একশ পার্সেন্ট ধান ক্ষতি হয়ে যাবে । রোগের লক্ষন দেখতে পেয়ে আমরা মাঠ পর্যায়ে ক্যাম্পেইন করেছি যে সমস্ত কৃষক আমাদের পরামর্শ নিয়েছে তারা এ রোগ থেকে রেহাই পেয়েছে আর যারা আমাদের পরামর্শ ছাড়া কিটনাশক ব্যবহার করেছে তারা ক্ষতি গ্রস্থের মুখের কবলে পড়েছে । তিনি আরো বলেন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আমাদের ১৪ হাজার ৭শ ৩০ হেক্টর জমির উঠতি বোর ফসলের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে ।