| |

Ad

সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত বিট পরিচালনা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ

আপডেটঃ 6:48 am | March 30, 2018

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:কুড়িগ্রাম জেলাধীন রৌমারী উপজেলার সাহেবের আলগা বিওবি সংলগ্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত চরইটালুকান্দা গবাদিপশুর (বিট/খাটালে) অবৈধ ভাবে গরু দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করায় সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে এলাকাবাসী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়,স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত শাখা-২ প্রজ্ঞাপন নীতিমালা অনুযায়ী দিলরুবা সানজিদা ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এস এম আল মামুন দুলাল বিট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তিতে গরু প্রতি ত্রিশ টাকা নিয়ে স্লিপ দিবে। নিকটস্থত বিওপি ক্যাম্পের দায়িত্বপাপ্ত কর্মকর্তা প্রতিটি গবাদিপশুর জন্য একটি করে স্লিপ দিয়ে কাস্টমস অফিসে প্রেরণ করেন। বিওবি ক্যাম্পের স্লিপ অনুযায়ী কাস্টমস অফিস গরু প্রতি সরকার নির্ধারণকৃত ৫শত টাকা রাজস্ব ফি আদায় করে রশিদ প্রদান করবে। কিন্তু বিট পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা শতকরা বিশটি গরু নীতিমালা অনুযায়ী কাস্টমসের রশিদের জন্য পাঠাচ্ছেন বিওবি ক্যাম্পে। বাকী গরু প্রতি নিজেরাই তিনশত টাকা করে আদায় করে গবাদিপশু গুলো ভিন্ন রাস্তা দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচাকের বিরুদ্ধে।বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কুড়িগ্রামের দিলরুবা সানজিদা ট্রেডিং কোঃ লিঃ ২০১০ইং সাল থেকে চরইটালুকান্দা গবাদিপশুর বিট/খাটালটি পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন যাবত গবাদিপশুর বিট/খাটাল পরিচালনা সুবাধে গরু কাস্টমস না করে গবাদিপশু পাচার, মাদ্রক ব্যবসা, চোরাচালানের সিন্ডিকেট গড়ে তোলাসহ নানা প্রকার দূর্নীতির আখড়া গড়ে তোলার অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর।চরইটালুকান্দা গ্রামের গরুর ব্যবসায়ী সুরুজ্জামান, শহিদুল ইসলাম, কামাল হোসেন জানান, ভারত থেকে প্রতিদিন ৫শ’টি গরু নামলে, ১শ’টি গরুর বিট পরিচালনা ফি ত্রিশ টাকা করে গরু প্রতি আদায় করে কাস্টমস করার জন্য নিকটস্থ বিওবিতে পাঠানো হয়। বাকী ৪শ’ গরুর কাস্টমস করার জন্য বিওবি ক্যাম্পে না পাঠাইয়ে বিট থেকে গরু প্রতি ৩শ’ শত টাকা করে নিয়ে বাইপাস করে। অনেক সময় রশিদ ছাড়া গরু বিজিবি আটক করে বিওবি ক্যম্পে নিয়ে যায় টাকা দিয়ে গরু ছাড়িয়ে আনতে হয়। আমরা বৈধ ভাবে গরু ব্যবসা করে হয়রানীতে পড়ে যাই। গরু বাইপাস না করলে রৌমারী বাজারের গেলে দেখা হবে বলে ব্যবসায়ীদের ভয় দেখান বিট কর্তৃকপক্ষ।এলাবাসী অভিযোগকারী মো. মগল হোসেন বলেন, গবাদিপশুর বিট/খাটাল পরিচালনা দিলরুবা সানজিদা ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এস এম আল মামুন দুলাল একজন চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী,তার বিরুদ্ধে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সে বিট পরিচালনা আরালে চোরাচালানী, মাদ্রক ব্যবসা, অবৈধ ভাবে গরু পাচারের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরের একাধিবার অভিযোগ করে কোন লাভ হয় নাই। এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললে রৌমারী উপজেলার সদরে গেলে ভাড়া করা সন্ত্রাসীদের দিয়ে মারধর করার হুমকি দেওয়া হয়।দিলরুবা সানজিদা ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এস এম আল মামুন দুলাল ইবনে আকবর অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, আমার বিরুদ্ধে গরু পাচারসহ সকল অভিযোগ মিথ্যা। আমি সরকারী বিধি মোতাবেক বিট পরিচালনা করছি।এ ব্যাপারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জামালপুর-৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভারত থেকে গরু যে ভাবে আসুক বাংলাদেশে বিট মাধ্যমে বৈধতা পায়। আমরা সব সময় চেষ্টা করি সরকার যাতে রাজস্ব পায়। বিট থেকে টাকা নিয়ে স্লিপ ছাড়া গরু পাচার হয়ে থাকলে, এ কাজে সাথে জড়িত ব্যক্তি বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপঙ্কর রায় বলেন, রাজস্ব ফঁকি দিয়ে অবৈধ ভাবে গরু পাচারে বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।