| |

Ad

গ্যাস সঙ্কটে যমুনা সারকারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা

আপডেটঃ 4:16 am | November 20, 2017

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধিঃ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং দেশের সর্ববৃহৎ দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সারকারখানা (জেএফসিএল) গ্যাস সঙ্কটে যে কোন সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এ্যান্ড ডিষ্ট্রিবিউশন কোং লিঃ প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ দিতে অপারগতা প্রকাশ করে কারখানা সাময়িক বন্ধ রাখার অনুরোধ করে কিন্তু সরকার সার উৎপাদন চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও এ সঙ্কট কাটেনি। গত ৯ নভেম্বর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এ্যান্ড ডিষ্ট্রিবিউশন কোং লিঃ এর গ্যাসের মোট উৎপাদন হ্রাস ও শীতকালীন তাপমাত্রা হ্রাস, গ্যাসের ব্যবহার তীব্র সল্পচাপ হওয়ায় এবং নন বাল্ক খাতে গ্যাস সংকট নিরসনে পেট্্েরাবাংলা শিল্প মন্ত্রনালয়, বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের সাথে কোন ধরনের পরামর্শ ছাড়াই যমুনার সার উৎপাদন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি জেএফসিএল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন, জামালপুর জেলা ট্রাক, ট্যাংলড়ী ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি তারাকান্দি আঞ্চলিক অফিস ও তারাকান্দি ট্রাক, ট্যাংলড়ী ও কাভার্ড ভ্যান চালক শ্রমিক ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রন অফিস এবং জেএফসিএল শ্রমিক কর্মচারী ও কর্মকর্তা এবং এলাকাবাসী’র যৌথ ভাবে প্রতিবাদ করে এবং মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করে।কারখানা সূত্রে জানাযায়, বিসিআইসি‘র নিয়ন্ত্রানাধীন যমুনা সার কারখানা কেপিআই-১ মান সম্পন্ন দেশের বৃহৎ ও একমাত্র দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান। কারখানায় গ্যাসের চাপ ৩৭০ পিএসআই কমে ২১০ থেকে ২৩০ পিএসআই এ নেমে আসলে সঙ্গত কারনেই সার উৎপাদন কমে যায়। সারকারখানা কর্তৃপক্ষ গ্যাসের প্রেসার নিয়ন্ত্রনের জন্য এনজি বুষ্টার কমপ্রেসার সংযোজন করার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৩ ইং সালে যমুনা সারকারখানা কর্তৃপক্ষ ক্যামেরূনের ইউ এস এ কর্তৃক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ভেনচার অফ-মেল-ভেনজ কে গ্যাস প্রেসার নিয়ন্ত্রনে এনজি বুষ্টার কমপ্রেসার স্থাপনের দায়িত্ব দেয়। তারা ২০১৪ ইং সালের ২৭ মার্চ ভারত থেকে আমদানী করা উক্ত যন্ত্রাংশ কারখানায় স্থাপন করে ২৪শে মে ট্রায়াল রান দেয়। বর্তমানে যন্ত্রাংশটির কার্যক্রম হিসেবে কারখানার সার উৎপাদনে গ্যাসের চাপ ২৪০ থেকে ২৬০ পিএসআই এ নেমে আসলেও তা ৩৭০ পি এস আই নিয়ন্ত্রন করে। ডিজাইন অনুযায়ী গ্যাস লাইনে ৩৭০ পি এস আই থাকার কথা। সে স্থলে গ্যাস লাইনে চাপ কম থাকলে তা উন্নীত করতে ১০০% নিয়ন্ত্রন রাখতে এ যন্ত্রাংশটি কাজ করছে। ফলে কারখানার ২৪ ঘন্টায় ১১০০/১২০০ শত থেকে প্রায় ১৬০০শত মেঃটন উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের আগষ্টের শেষ সপ্তাহ থেকে যমুনা সার কারখানায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এ্যান্ড ডিষ্ট্রিবিউশন কোং লিঃ গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয়। গ্যাসের চাপ কম থাকায় এনজি বুষ্টার কমপ্রেসারের মাধ্যমে গ্যাসের প্রেসার ঠিক রেখে কারখানা কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন চালু রেখেছিল। কিন্তু তার পরেও দৈনিক ১৭ ‘শ মেঃ টন উৎপাদনে সক্ষম কারখানায় শতকরা ৬০ ভাগ সার উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। গ্যাসের অভাবে সার উৎপাদন যে কোন মুহুর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গ্যাস স্বল্পতার কারনে দৈনিক ১৭০০ মেট্রিক টন দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদনে সক্ষম যমুনা সারকারখানাটিতে ধারাবাহিক উৎপাদন ছিলো দৈনিক গড়ে ১৫০০ মেট্রিক টন। কিন্তু গত রোববার ৯৭৪ মেঃ টন, সোমবার ১০৩১ মেঃ টন, মঙ্গলবার ১০৪০ মেঃ টন, বুধবার ১০৯০ মেঃ টন, বৃহঃবার ১১১২ মেঃ টন সার উৎপাদন হয় বলে জানাগেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে যমুনা সারকারখানার ব্যাবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহবুবা সুলতানা বলেন, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এ্যান্ড ডিষ্ট্রিবিউশন কোং লিঃ এর গ্যাসের মোট উৎপাদন হ্রাস ও শীতকালীন তাপমাত্রা হ্রাস, গ্যাসের ব্যাবহার তীব্র সল্পচাপ হওয়ায় এবং নন বাল্ক খাতে গ্যাস সংকট নিরসনে পেট্্েরাবাংলা এ পত্র দিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দৈনিক ১৭০০ মে. টন ইউরিয়া উৎপাদনে সক্ষম এ কারখানা বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় সারের চাহিদা পুরণ করে আসছে।