| |

Ad

মন্তব্য প্রতিবেদন প্রশ্ন ফাঁস প্রতিরোধে নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়ার একটি সাদামাটা পদ্ধতি

আপডেটঃ 5:37 am | March 07, 2018

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে ঘটছে প্রশ্ন ফাঁস-এর ঘটনা।পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই প্রশ্ন পৌঁছে যাচ্ছে পরীক্ষার্থীদের হাতে।ইংরেজি মাধ্যমে এই প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছেনা কিন্তু বাংলা মাধ্যমের অবস্থ যা’ইচ্ছে তাই।প্রশ ফাঁসে জড়িতদের ধরিয়ে দিতে পাঁচ লক্ষ টাকা ঘোষণা করলে ও লাগাম টানা যায় নি অপরাধীদের।লাগাতার প্রশ্ন ফাঁসের জন্য কর্তৃপক্ষের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনাকে দোষলেও মিলছেনা এর সমাধান।বিশেষজ্ঞরা এর জন্য ৫ টি কারণ ভীষণভাবে দায়ী বলে উল্লেখ করেছেন।প্রথমতঃ এখন অলিতে গলিতে পরীক্ষার কেন্দ্র। কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হলেও সে অনুযায়ী নিরাপত্তা জোড়দার করা হয়নি।সুরক্ষার অভাবে পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে প্রশ্ন।দ্বিতীয়তঃ প্রশ্ন ফাঁস করা হয় বিভিন্ন মহল থেকে। এতে জড়িত রয়েছে কোচিং সেন্টার ও সংশ্লিষ্টরা।পরীক্ষার অব্যবস্থাপনা ও পরিচালনাকারীদের সংগে এদের সূ² যোগ সাজস রয়েছে। এই চক্রের হাত ধরে পরীক্ষা শুরুর আগেই ছড়িয়ে পড়ছে প্রশ্ন। তৃতীয়তঃ আমাদের সমাজে এখন দেখা দিয়েছে ভয়াবহ মূল্যবোধের অবক্ষয়। এ পরিস্থিতি আমাদের ভাবিয়ে তুলছে।টাকা দিয়ে প্রশ্ন কেনা বেচা করতে বাঁধছেনা এইঅসৎ শ্রেণির মানুষদের।চতুর্থতঃ একটি বিষয় খুব জরুরী হয়ে দেখা দিয়েছে, তাহলো প্রযুক্তি।সামগ্রিক দিক থেকে প্রযুক্তি যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতির নিয়ন্ত্রণ, বিতরণ ব্যবস্থা চলছে পুরনো পদ্ধতিতে। এই পুরনো পদ্ধতিতে পাশ কাটিয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় প্রশ œফাঁস চালিয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা।পঞ্চমতঃ এই ধারাবাহিক প্রশ্ন ফাঁসের মূলে নিঃসন্দেহে রয়েছে প্রশাসনিক অদক্ষতা বা ব্যর্থতা।পরীক্ষার পুরো পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণে নৈতিকতা মানুষের প্রয়োজন।সরকারের সীমাবদ্ধতার কারণে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র প্রনয়ন করাও একটু দূরূহ।তাছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাট এর কারণ এ সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড নতুন পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের যন্ত্রনার কারণ হতে পারে, ব্যাঘাত ঘটতে পারে পুরো পরীক্ষা পদ্ধতির।সব মিলিয়ে নি¤েœ সাদামাটা পদ্ধতি (সেমিডিজিটালাজড)ব্যবহার করে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো সম্ভব বলে আমি মনে করি।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সাদামাটা পদ্ধতির প্রতি অনেকে পজিটিভ মন্তব্য করেছেন।আর্থিক ভাবেও সাশ্রয়ী এই পদ্ধতি একেবারেই নতুন কিছ ুনয়। এ পদ্ধতিটির সুপারিশ শুধুমাত্র বহুল প্রচলিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের এস.এস.সি/সমমান এবং এইচ.এসসি/সমমান পরীক্ষার জন্য-যেখানে পরীক্ষার জন্য কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৫০০ টি পরীক্ষার জন্য-যেখানে পরীক্ষার জন্য(১) একটি বিষয়ের ৮-১০টি প্রশ্নের সেট প্রণয়ন করে পরীক্ষার ৩-৬ মাস পূর্বে উন্মুক্ত করে দেয়া।প্রশ্নপত্র প্রণয়ন কারীগণ লক্ষ্য রাখবেন যেন ১০টি সেটের মধ্যে সকল অধ্যায়ের বিষয় বস্তু সন্নিবেশিত থাকে।(২)পরীক্ষার দিনসকাল ০৮.০০ ঘটিকায় আন্তঃ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এর রুমেলটারীর মাধ্যমে একটি সেট নির্ধারণ করে কেন্দ্রের সভাপতির ই-মেইল নম্বরে প্রেরণ করা।(৩)সকল কেন্দ্রে একটি রুমে দুটি ফটো কপিয়ার মেশিন, ১টি জেনারেটর (বিদ্যুৎ এর অবর্তমানে) পূর্বেই নিশ্চিত করা।প্রতি মিনিটে ৬০টি করে কপি করা যায় এমন মেশিন বাংলাদেশে আছে।ঘন্টায় দুইটি মেশিনে প্রায় ৬০০০ কপি করা সম্ভব। মোবাইলবিহীন (সভাপতি ব্যতিরেকে)সকল ব্যক্তি ফটোকপিয়ার মেশিন রুমে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করবেন। ক্লোজ সর্কিট ক্যামেরা রাখা যায় উক্ত রুমে।সকাল ০৯.০০ টার মধ্যে প্রশ্ন ফটো কপি করা শেষ হবে।পরবর্তীতে বিতরণ।আমাদের দেশের বেশীর ভাগ কেন্দ্রেই পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩-৪ হাজার মাত্র।(৪) ৮-১০ টি সেটের মধ্যে একটি সেট সেট প্রণয়ন করে পরীক্ষার ৩-৬ মাস পূর্বে উন্মুক্ত করেয় থানা লকারে রাখার ব্যবস্থা করা যায়,ইন্টারনেট বিভ্রাট কিংবা হ্যাকজনিত বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য। উক্ত সেটটি অবশ্যই লটারীর আওতামুক্ত।(৫)প্রতিপরীক্ষার কেন্দ্রের জন্য ২টি ফটো কপির মেশিন, ১টি জেনারেটর এবং একটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার জন্য সর্বোচ্চ খরচ হবে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা মাত্র। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিটির জন্য ৪০-৫০ কোটি টাকার প্রয়োজন যাকি না কয়েক বছর ব্যবহার উপযোগী।(৬)এম সিকিউ অর্থাৎ বহুনির্বাচনী প্রশ্নের সংখ্যা ৩০ থেকে কমিয়ে ১০-১৫ এর মধ্যে রাখা যেতে পারে।আমার বিশ্বাস এই পদ্ধতি কার্যকর করা হলে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করেই পরীক্ষার হলে আসবে।এটি যেহেতু একেবারেই নতুন পদ্ধতিনয় সুতরাং শিক্ষার্থীদের সহনীয় হবে।প্রশ্ন পত্র ফাঁসের প্রবণতা কমে আসবে। লেখক : কৃষি অর্থনীতিবিদ আশরাফুল ইসলাম অপু masislam1997@gmail.com এ মন্তব্য থাকলে এজানাতে পারেন।