| |

Ad

১৭ শিক্ষক এমপিও ভুক্ত হতে পারেনি ময়মনসিংহ জেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ

আপডেটঃ 5:41 am | February 25, 2018

স্টাফ রিপোর্টার : ময়মনসিংহ জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁর দায়িত্বহীনতা ও অজ্ঞতার কারণে ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত ১৭ জন শিক্ষক এমপিও ভুক্ত হতে পারেনি । অমানবিক আচরণ করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শিক্ষকদের জীবনকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছেন। প্রতিকার চেয়ে শিক্ষকরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন।অভিযোগ থেকে জানা গেছে, শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিও ভুক্তিকরণ,নাম সংশোধন,কর্তন,উচ্চতর স্কেল প্রদান সহ নানা ক্ষেত্রে হয়রানি করছেন ।এমনকি দিনের পর দিন ফাইল আটকে রেখে কর্মচারিদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে আসছেন।এছাড়া যে সব প্রতিষ্ঠানের কমিটি নেই তাদের বেতন ভাতাদির বিলে স্বাক্ষর করতে গড়িমসি করেন। অফিসের সময় শেষ হলেও প্রায়ই অনেক রাত পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলার ১৭ জন কম্পিউটার এবং বিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয়ে শাখা খোলার জন্য যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সেসব শিক্ষকদের নামের তালিকা উপজেলা হতে জেলা শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করা হয়।যথারীতি এ তালিকা জেলা শিক্ষা অফিস থেকে মাউসিতে প্রেরণ করার নিয়ম রয়েছে।জেলা শিক্ষা অফিসার উপজেলা হতে প্রেরিত তালিকা থেকে ১৭ জন শিক্ষকের নাম ক্ষমতার দাপটে বাদ দিয়ে মহা পরিচালকের দপ্তরে প্রেরণ করেন ।এতে ১৭ জন শিক্ষক এমপিও থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ঈশ্বরগঞ্জ, গৌরীপুর, ফুলপুর, তারাকান্দা, মুক্তাগাছা, সদর, ধোবাউড়া,ফুলবাড়িয়াসহ অন্য উপজেলা থেকে শিক্ষকদের তালিকা এমপিও ভুক্তির জন্য প্রস্তাব ও সুপারিশ করে জেলা শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করা হয় ।গত ৩/৪ বছর যাবত এরা বঞ্চিত হয়ে আসছে।সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ প্রায় ৭ হাজার শিক্ষককে এমপিও ভুক্তির আদেশ প্রদান করেন।কিন্তু দুঃখ জনক ময়মনসিংহ থেকে জেলা শিক্ষা অফিসার উপজেলা থেকে প্রেরিত ১৭ শিক্ষকের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে মাউসিতে প্রেরন করেন।ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ তালিকা প্রেরণ করার কারণে ১৭ শিক্ষক এমপিও ভুক্তির ক্ষেত্রে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন ।ক্ষতিগ্রস্থ ১৭ শিক্ষক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক বরাবরে একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন। জানা গেছে,জেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম প্রায় ৩ বছর যাবত ময়মনসিংহে অবস্থান করছেন। তিনি এমপিও ভুক্তিতে হয়রানি,শ্রেনী শাখা খুলতে হয়রানি, কমিটি বিহীন প্রতিষ্ঠানের বেতন ভাতাদিতে স্বাক্ষর প্রদানে গড়িমসি করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।সম্প্রতি ডিজিটাল উদ্ধোধনী মেলার কথা বলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছেন মর্মেও অভিযোগ রয়েছে।কম্পিউটার শাখা খোলার জন্য কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ করে আবেদন করতে হয়। এ বিধি সম্পর্কে জেলা শিক্ষা অফিসারের কোন ধারণা নেই বলেও অভিযোগকারীরা পরিষ্কার ভাবে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। তিনি তার অজ্ঞতার কারণে নতুন শাখা খোলার জন্য কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি আমলে আনেননি।উপজেলা থেকে প্রেরিত তালিকায় এ ধরনের শিক্ষকদের নাম তিনি প্রস্তাব আকারে মাউসিতে প্রেরণ করতে নারাজ।ফলে তিনি খর্গ চালিয়ে নিয়ম বহির্ভুত ভাবে অপকর্মটি করেছেন।অভিযোগকারীরা অপকর্মের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও দূর্নীতি দমন বিভাগের তদন্ত দাবী করেছেন।অভিযোগ উঠেছে,তাকে বদলী করার জন্য ।তিনি দীর্ঘদিন যাবত ময়মনসিংহে অবস্থান করার কারণে শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেকের প্রতি নাখোশ হয়েছেন এবং অন্যায় ভাবে খর্গ চালিয়ে নাজেহাল করছেন।এতে শিক্ষা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে একটি সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।শিক্ষক ও কর্মচারীরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন,এতে পাঠদান কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে । চলমান এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনেও তাঁর সরব উপস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে, সমস্যা দূরীকরণ,বিদ্যালয়ের সৃষ্ট জটিলতা দূরীকরণ,যে সব প্রতিষ্ঠানে কমিটি নেই সেসব প্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনে ভূমিকা রাখা,বিদ্যালয়ে ক্লাস ঠিকমত হচ্ছে কিনা তা পরিদর্শন কাজে জোরালো ব্যবস্থা গ্রহন, সর্বোপরি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি উন্নয়নে মনিটরিং কাজে গাফিলতির ছাড়া অন্য কিছু পরিলক্ষিত হচ্ছে না।ফলশ্রæতিতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর মুখ থুবড়ে পড়েছে।জাল সার্টিফিকেট নিয়ে অনেকে চাকরি করছেন রয়েছে।সে সব তথ্য উৎঘাটনে তার কোন ভূমিকা নেই।