| |

Ad

ময়মনসিংহের ত্রিশালে বিধবা হতদরিদ্র মাজেদার বাড়ীতে হামলা ঃ ঘরবাড়ী ভাংচুর ও লুট করে ভিটে থেকে উচ্ছেদ : সুবিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

আপডেটঃ 5:39 am | February 25, 2018

স্টাফ রিপোর্টার: ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলাধীন বৈলর মঠবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা হতদরিদ্র ও বিধবা মাজেদা খাতুন ও তার সন্তানদেরকে ভিটেবাড়ী থেকে উচ্ছেদ করে সমস্ত সহায় সম্পদ লুট করে নিয়েছে তার সহোদর ভাই মাইন উদ্দিন ও তার সন্তানেরা। এতে মাজেদা সারা জীবনের সম্পদ শেষ হয়ে গেছে। সে এখন পথের ভিখেরী। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। সাহায্যের আশায় দিশেহারা হয়ে স্বাভাবিক জ্ঞানবুদ্ধিও হারিয়ে ফেলেছে। অবশেষে ন্যায় বিচারের প্রার্থনা করে মানবিক কারণে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে এক আবেদন করেছে। গত ২০ ফেব্রæয়ারি প্রধানমন্ত্রী, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার, ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি, অধিনায়ক র‌্যাব-১৪ ময়মনসিংহ, অধিনায়ক ডিজিএফআই ময়মনসিংহ, জেলা প্রশাসক ময়মনসিংহ, পুলিশ সুপার ময়মনসিংহ, চেয়ারম্যান জেলা পরিষদ ময়মনসিংহ, চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ ত্রিশাল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ত্রিশাল, মেয়র ত্রিশাল পৌরসভা, চেয়ারম্যান ২নং বৈলর ইউনিয়ন ত্রিশাল বরাবরে এক আবেদন করেছেন । দায়েরকৃত আবেদনে মাজেদা যা বলেছেন তা হচ্ছে, সে একজন অতি অসহায় ও দরিদ্র বিধবা মহিলা। চোখে ঠিকমত দেখতে পায় না; অর্থাভাবে চিকিৎসা করতে পারেনি। এখন অন্ধ হতে যাচ্ছে। ছোটকাল থেকেই দরিদ্র পিতার সন্তান হিসেবে খুব কষ্টে বড় হয়েছে। স্বামীর কোন ভিটে বাড়ী নেই। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। সন্তানদের ভিটে বাড়ী নেই। তার সাথেই বসবাস করতো। তার দরিদ্র স্বামীর মাথা গোজার ঠাঁই নেই। পিতার ভিটে বাড়ীতেই সারাজীবন স্বামী সন্তান নিয়ে বসবাস করছে। পিতার রেখে যাওয়া ভূমি থেকে সোয়া ৬ শতাংশ ভূমি সে তার সন্তান হিসেবে ওয়ারিশ পেয়েছে। ভূমির তফসিল হচ্ছে এস.এ খতিয়ান নং-৮২০ বি.আর.এস ৩২২৬, এস.এ দাগ নং-৩০৫৭ বি.আর.এস ৯৩১০। এই সোয়া ৬ শতাংশ ভূমি ছাড়া পৃথিবীতে মাজেদার আর কোন সহায়-সম্পদ নেই। মাজেদা পিতার ভূমিতে জন্মের পর থেকেই আছে এবং বিগত ২৬ বছর যাবত নিজে একটি ঘর করে স্বামী সন্তান নিয়ে অতিকষ্টে দিন যাপন করছে। সমিতি ও পরিচিত লোকের কাছ থেকে ধার দেনা করে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে একটি ২০ হাত লম্বা দু’চালা টিনের ঘর নির্মাণ করে। তার বাড়িতে একটি বড় কড়ই গাছ ও বড়ই গাছ ছিল, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা। গাছ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করবে এই ভরসা নিয়েই ঋণ করে ঘর করে ছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তার সহোদর ভাই মোঃ মাইন উদ্দিন (৫৮), পিতা-মৃত শমসের আলী ও তার ৩ ছেলে যথাক্রমে সোহাগ মিয়া (২৫), সোহেল মিয়া (২২), জুয়েল মিয়া (১৯) ও আরও বেশ কয়েকজন তার পরিবারের উপর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অমানবিক পৈচাশিক কায়দায় চড়াও হয়। গত ০৪/০৪/২০১৭ ইং তারিখ মঙ্গলবার সকাল অনুমান ৮টায় সশস্ত্রে হামলা চালায়, বেআইনি জনতাবলে তার ঘরে অনধিকার প্রবেশ করে ভাংচুর ও লুটপাট করে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তার ঘর ভেঙ্গে তার ঘরে থাকা হাঁড়ি পাতিলসহ সমস্ত কিছু লুট করে নেয়। কড়ই গাছ ও বড়ই গাছ দুটি কেটে ফেলে এবং ওই গাছের কাঠ দিয়ে মাইন উদ্দিন তার ঘর নির্মাণ করেছে। এতে মাজেদার ২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। দানবের ন্যায় অত্যাচার চালিয়ে তার ঋণ নিয়ে তৈরী করা ঘরটি তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে তছনছ করে ফেলে এবং মুহুর্তের মধ্যে তার ও তার সন্তানদের জীবনের সমস্ত সম্পদ ধ্বংস হয়ে যায়। এখন তার বলতে আর কিছুই নেই। হামলা কালে তাকে বেদম প্রহার করে, ঘর থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করে দেয়। গলা টিপে হত্যা করতে চায়। তাকে উচ্ছেদ করে তার ভুমি জবর দখল করে নেয়। তাকে ও সন্তানদেরকে খুনের হুমকি দিচ্ছে। যেকোন মুহুর্তে তার ও তার সন্তানদেরকে খুন করে ফেলতে পারে। সে পথের ভিখারী হয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার মাথা গুজার কোনো ঠাঁই নাই। এখানে সেখানে দিন কাটাচ্ছে। অর্ধাহারে অনাহারে তার জীবন চলছে। সে তার ভিটে বাড়ীতে যেতে চায়। লুণ্ঠিত মালামাল ফেরতসহ ক্ষতিপূরণ চায়। হামলাকারীদের শাস্তি চায়। সে বেঁচে থাকতে চায়। মানবিক কারণে সাহায্য সহযোগিতার জন্য আকুল আবেদন করেছে। সে এমনিতে দরিদ্র ও অসহায়, বর্তমানে ভিখেরী। তবুও সে একজন মানুষ; তাকে বাঁচান। তার উপর অত্যাচার বন্ধ করে স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য কর্তৃপক্ষের করুণা ভিক্ষা চায়। সে কি তার ভিটে বাড়ীতে যেতে পারবে না? তার ভিটে বাড়ী থাকা সত্তে¡ও সে কি শিয়াল কুকুরের ন্যায় রাস্তাতেই মরবে? বর্তমান সরকার দরিদ্র মানুষের সরকার। শুনেছি যাদের ভিটে বাড়ী নেই তাদেরকে ঘর বাড়ী করে দিচ্ছেন, আর সে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়ে গৃহহীন অবস্থায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিয়তির কি বিধান। তার ভাই মাইন উদ্দিন ও তার সন্তানরা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, পর সম্পদলোভী, তার সম্পত্তি আত্মসাৎ করার ষড়যন্ত্র হিসেবে তার উপর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পৈচাশিক ও নারকীয় কায়দায় হামলা চালিয়ে সর্বশান্ত করেছে এবং সম্পদ লুট করেছে। সে এখন পথের ভিখেরি। পথই তার ঘর, পথই তার ঠিকানা। তার সহোদর বড়বোন মজিদা খাতুনের ঘর বাড়ীও তার ভাই মাইন উদ্দিন গং ভেঙ্গে তছনছ করে লুটপাট করেছে। তাকেও বাড়ী থেকে উচ্ছেদ করেছে। তার ৩ শতাংশ ভূমি জবর দখল করে নিয়েছে। তার ভগ্নিপতি একজন পঙ্গু ও অসহায়। সে এখন নিরপত্তাহীনতায় ভুগছে। ন্যায় বিচারের আশায় এই আবেদন করেছে।