| |

Ad

ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনের ফলে মহান মুক্তিযুদ্ধের মুক্তাঞ্চল রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলাটি বাংলদেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার আশংকা

আপডেটঃ 5:42 am | February 19, 2018

শফিকুল ইসলাম, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি \ মহান মুক্তিযুদ্ধের মুক্তাঞ্চল(রৌমারী ও রাজিবপুর) প্রতি বছর ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি, ২৫টি গ্রামে প্রায় ১০কিলোমিটার বিস্তত এলাকা জুড়ে ব্রহ্মপুত্রের বামতীরে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে, দুই বছর ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক চলছে প্রকল্প প্রস্ততকরণ, নেই কোন জরুরী নদীর তীর সংরক্ষণের উদ্যোগ।বাংলাদেশের সবচেয়ে দরিদ্র জেলা কুড়িগ্রাম জেলার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন শীর্ষ দরিদ্র নদী ভাঙ্গন কবলিত উপজেলা রৌমারী ও রাজিবপুর। ঐতিহাসিক উপজেলা দু’টি ১৯৭১ইং সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মুক্তাঞ্চল ছিল। এখানে যুদ্ধকালীন দীর্ঘ সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা সর্বক্ষন স্বগৌরবে উড্ডীন ছিল। একমাত্র রৌমারী চাঁনমারীতে সমাপনী সামরিক প্রশিক্ষন করেন সব মিলে প্রায় ৬৫হাজার মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশের প্রথম মুদ্রা প্রচলন হয় রৌমারী উপজেলা থেকে। ৩শ’আট বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট এ দু’টি উপজেলায় জনসংখ্যা প্রায় ৩লক্ষ। মোট জনসংখ্যা ৭০% এর বেশি অতি দরিদ্র। ১৯৭১ইং সালে পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেলেও বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদের করাল গ্রাসে নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে উপজেলা দু’টি। ব্রহ্মপুত্র নদটি একাধিক চ্যানেলে বিভক্ত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্য হতে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বপ্রান্তে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা দু’টির অবস্থান। উপজেলা দু’টির স্থলভাগ গড়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার মিটার প্রশস্ত। যার পূর্বপ্রান্তে ভারতের আসাম ও মেঘালয় রাজ্য অবস্থিত। এ কারনে উপজেলা দু’টির অবস্থান বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তাসহ সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বর্পূণ। ব্রহ্মপুত্র নদের সরুবামের চ্যানেলটি রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত।রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভা কার্যবিবরণী সূত্রে জানা যায় ও রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী ও রাজিবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শফিউল আলম জানান, প্রতি বছর বন্যা ও বন্যার পরবর্তী সময়ে এ এলাকার ব্যাপক নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়। ফলে উক্ত এলাকার সরকারী ও বে-সরকারী বহু স্থাপনা, বসতবাড়ী ও ফসলী জমি নদের গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বর্তমান দু’টি উপজেলার প্রায় ৩৫হাজার পরিবার, ২০টি হাট-বাজার, ৫টি নৌ-ঘাট, ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১৭টি মাদ্রাসা, ১২হাজার হেক্টর জমিসহ বিভিন্ন সরকারী, আধাসরকারী, এনজিও প্রতিষ্ঠান ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে।এছাড়াও ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে রৌমারী উপজেলার বাগুয়ারচর, বাইটকামারী,উত্তরখেদাইমারী,দক্ষিণখেদাইমারী, উত্তর পাখিউড়া, পশ্চিম খনজনমারা,কুঠিরচর,চরবাঘমারা,চর বন্দবেড়,সাহেবেরআলগা, গেন্দার আলগা, ধনারচর, দিগলাপাড়া, রাজিবপুর উপজেলার উত্তরসাজাই, দক্ষিণসাজাই মাধবপুর, কড়াতিপাড়া, রাজিবপুর উপজেলা প্রশাসন, খাদ্যগুদাম, হাসপাতাল, টিএন্ডটি ভবন। মোহনগঞ্জ ইউনিয়নসহ প্রায় ২৫টিগ্রাম। ইতিমধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে, রৌমারী উপজেলার ইটালুকান্দা, সাহেবের আলগা, চর গেন্দার আগলা, ঘুঘুমারী,খেরুয়ারচর, খেদাইমারী, পশ্চিম বাগুয়ারচর ,বাইসপাড়া, বলদমারা, পশ্চিম পাখিউড়া ফলুয়ার চর, পালেরচর, ধনারচর, দিগলাপাড়া, তিনতেলী।অপরদিকে রাজিবপুর উপজেলার পশ্বিম রাজিবপুর, ধলাগাছা, তারাবর, বড়বেড়, মদনের চর, মুন্সীপাড়া, হাজীপাড়া, নয়ার চর,লম্বাপাড়া, সন্দেসীকান্দা, সবুজপাড়া, ব্যাপারীপাড়া, ফকিরপাড়া, ঢাকাইয়াপাড়া, দশঘরি পাড়া, বাজারপাড়া, বোল্লাপাড়া, মাঠেরভিটা শংকরপুর, সংকর মাধবপুর, মাধবপুর, উত্তর সাজাই, কোদালকাটি, দক্ষিণ সাজাই, চর সাজাইসহ প্রায় শতাধিক গ্রাম ।নদে ভাঙ্গনে বিলিন হয়া গ্রামের হাজার হাজার মানুষ তাদের বাব দাদার ভিটে মাটি হারিয়ে পরিণত হচ্ছে ভূমিহীনে। এসব মানুষ সর্বহারা হয়ে আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন রাস্তার দুপাশে হেলিপ্যাডে আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে ঝুপড়ি তুলে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এভাবে প্রতি বছর নদের ভাঙ্গনের ফলে হাজার হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহন না করলে, অদুর ভবিষ্যতে মহান স্বাধীনতার মুক্তাঞ্চল রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা বাংলাদেশের মানচিত্র হতে সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাবে।পানি উন্নয়ন বোড, কুড়িগ্রাম জরুরী পরিস্থিতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুন্নয়ন রাজস্ব খাত থেকে বরাদ্দের মাধ্যমে বিভিন্ন বাঁধ সংস্কার অস্থায়ী নদী তীর সংরক্ষণ কাজ করা বরাদ্দ থাকলেও, পানি উন্নয়ন বোর্ড রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বতীর সংরক্ষণ কাজে কোন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতা, অদক্ষতা ও শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাবে সামনের বর্ষায় নদের বামতীর ভাঙ্গনে ঘরবাড়ি , আবাদি জমি. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নদীতীর সংলগ্ন বসবাসরত মানুষ আতঙ্কে আছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আশায় দিন পার করছেন রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলাবাসী।রৌমারী নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও নদী ভাঙ্গনে ফলে উদবাস্ত হওয়া পরিবার নিয়ে কর্মরত স্থানীয় বে-সরকারী সংস্থা সিএসডিকে’র নির্বাহী পরিচালক মোঃ আবু হানিফ জানান, গত পাঁচ বছরে রৌমারী,রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলার প্রায় ৫০হাজার পরিবার নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে উদবাস্ত হয়েছে। এইসব পরিবারের একটি বড় অংশ ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বস্তিতে বসবাস করছে। উদবাস্ত পরিবারের পূর্নবাসন ও নদী ভাঙ্গন রোধ না করলে আগামী ১০বছরে মধ্যে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে রৌমারী ও রাজিবপুর নামের দুটি উপজেলা বিলেন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গন রোধে একটি প্রকল্প প্রস্তবনা প্রনয়ণ (ডিপিপি) প্রস্তত করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ঢাকা, প্রেরণ করা হয়েছে। ডিপিপিটি পরিকল্পনা কমিশন ও একনেকের সভায় অনুমোদন হয়ে আসলে কাজ শুরু হবে। আসছে বন্যা মৌসুমের আগে প্রকল্প অনুমোদন করে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে না। জরুরী কিছু প্রকল্প আছে বরাদ্দ পেলে বন্যা মৌসুমে নদের ভাঙ্গন রোধে কিছুটা হলেও রক্ষা করা সম্ভব হবে। ২৮,কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন জানান, দীর্ঘ দুই বছর ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের বামতীর সংরক্ষণ কাজের প্রকল্প প্রস্তবনা প্রনয়ণ (ডিপিপি) তৈরীর কাজ চলছে। এ ডিপিপি তেরীর কাজে বার বার ভুল হয়। এ বিষয়ে সংসদ অধিবেশনে কথা বলেছি, নোটিশ দিয়েছি, মানানীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করেছি। মহান মুক্তিযুদ্ধের মুক্তাঞ্চল রৌমারী ও রাজিবপুর বীরপ্রতীক তারামন বিবি বাড়ী এই পবিত্রভূমি রক্ষায় আমার আমুলে ৪বছর পার হলেও একটি টাকার ব্রহ্মপুত্র নদের বামতীর সংরক্ষণ কোন কাজ হয়নি। ছয়শত ৬৫কোটি টাকা একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রনয়ণ (ডিপিপি) তৈরী হয়েছে। প্রকল্পটি একনেকে সভায় অনুমোদিত হলে কাজ শুরু হবে।