| |

Ad

ময়মনসিংহ জেলাখানা কর্তৃপক্ষের মসজিদের জমি দখল ও খাল ভরাটের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

আপডেটঃ 6:14 am | February 16, 2018

শহর সংবাদদাতা : গতকাল ১৫ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ময়মনসিংহ জেলখানা কর্তৃক মসজিদের জমি দখল, খাল ভরাট করে দোকানপাট নির্মাণের বিরুদ্ধে কাশর-গলগন্ডা এলাকাবাসী এক সংবাদ সম্মেলন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন সংস্থা, ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাসরিন সুলতানা। এ সময় অনান্যদের মাঝে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন চৌধুরী, এম এ মতিন ও সাইফুল ইসলাম রায়হান। সংবাদ সম্মেলনে বক্তরা বলেন, দীর্ঘ তিন (০৩) বছর ধরে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের সাথে (কাশর-গলগন্ডা) এলাকাবাসীর জীবনযাপন ও অস্তিত্বের সংকট চলে আসছে। ব্যক্তিমালিকানায় দানকৃত মসজিদের জমি (কাশর-গলগন্ডা মৌজার বি.আর.এস- ৪৩২ খতিয়ান নং- ১১২৭ তফসিলকৃত জমির স্বত্ব বায়তুত তাকওয়া জামে মসজিদ) দখল, অত্র এলাকার প্রায় ৩০ হাজার জনগোষ্ঠীর পানি নিষ্কাশনের একমাত্র প্রাচীন খাল ভরাট করে দোকানপাট নির্মাণ, সরকারি রাস্তার গাছ কর্তন করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, এলাকাবাসীর মামলার (মামলা নং ২১৭/১৫) প্রেক্ষিতে আদালত ২৩/০৮/২০১৫ তারিখে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ জারি করেন। এরপরও আদালতের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে মসজিদের জমিতে ড্রেন ও প্রাচীর নির্মাণের জন্য বহুবার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও এলাকাবাসাীর সম্মিলিত চেষ্টায় পেরে উঠেনি। সর্বশেষ ১৩/০২/১০১৮ তারিখে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের প্রকল্পের আওতায় কার্যাদেশ অনুযায়ী পুনর্বার কাজ শুরু করে। এমতাবস্থায় এলাকাবাসী আদালতের নিষেধাজ্ঞাপত্র গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে দাখিল করেন এবং কোতুয়ালী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ হয়েছে, কিন্তু যে কোন মূহুর্তে জেলখানা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গণপূর্তবিভাগ কাজ শুরু করতে পারে বলে আমরা এলাকাবাসী শংকিত আছি। কারণ বিগত দিনে এভাবেই কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে জেল কর্তৃপক্ষ যেমন বৃক্ষ কেটেছে, খাল ভরাট করে দোকানপাট নির্মাণ করেছে, মসজিদের জায়গা দখল করার অশুভ চেষ্টা করেছে, পৌর রাস্তা এবং খালের পাশে ছোট্ট জানাজা চত্বর জায়গাটিতেও প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ময়মনসিংহ পৌর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন সময়ের বৈঠকের ফলে জেলখানা কর্তৃপক্ষ কিছুটা নিরব ছিল। কিন্তু বর্তমান সর্বশেষ অবস্থায় ময়মনসিংহ জেলখানা কর্তৃপক্ষ কোনকিছু নিয়ম-নীতি, আইন-আদালতের তোয়াক্কা না করে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এ-ও প্রশ্নÑ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গণপূর্ত অধিদপ্তর কিভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যাদেশ দেয়।বক্তরা বলেন, জলখানা কর্তৃপক্ষের এইসব দখল-অনিয়ম- দুর্নীতির বিরুদ্ধে এলাকাবাসী সোচ্চার ভূমিকা পালন করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা- মোকাদ্দমা, জেল-হাজতের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আসছে এবং জেলখানা র্কর্তৃপক্ষের চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।আমরা চাই, বিদ্যমান অবস্থার প্রতিকার। আমরা চাই, পবিত্র মসজিদের জায়গা অন্যায়ভাবে দখল করে যেন নিতে না পারে জেল কর্তৃপক্ষ। আমরা চাই, এলাকাবাসীর খাল এলাকাবাসীর থাকুক। আমরা চাই, জানাজা-চত্বরটুকু দখল হয়ে না যাক। আমরা চাই না, খালের জমিতে অন্যায়ভাবে দোকানপাট নির্মাণ করে জেলখানা কর্তৃপক্ষ ব্যবসা করুক। পৌর পথের বৃক্ষকাটা বন্ধ করুক। আমাদের এলাকার পরিবেশ এবং জনজীবনের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় থাকুক। জেলখানা কর্তৃপক্ষের দখল-দুর্নীতি- অনিয়ম এর জরুরী প্রতিকার চাই।